সর্বশেষ:

প্রধান শিক্ষকের কাছে আব্রাহাম লিংকনের খোলা চিঠি

প্রধান শিক্ষকের কাছে আব্রাহাম লিংকনের খোলা চিঠি

আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট(১৮৬১-১৮৬৫)। অত্যন্ত গরীব পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও স্বীয় প্রচেষ্টায় আমেরিকার অধিপতি হতে পেরেছিলেন।

 

প্রত্যেক অভিভাবকই তার সন্তানকে ভালবাসেন। তবে আজকাল অভিভাবকগন তার সন্তানদের শিক্ষকের সাথে ব্যবহার শিক্ষায় তেমন সচেতন থাকেন না। আমেরিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জর্জ আব্রাহাম লিংকন তার পুত্রের শিক্ষকের কাছে তার পুত্রকে কি রূপে গড়ে তুলতে হবে সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেন। তার এই পত্র দ্বারা বুঝা যায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা ন্যায় পরায়ন, সচেতন এবং উত্তম চরিত্রের মানুষ ছিলেন। আব্রাহাম লিংকনের চিঠির ভাষ্যগুলি সকল অভিভাবকের তার সন্তানের জন্য কাম্য হওয়া উচিত। তার চিঠিটির বাংলা ভাষ্যগুলি ছিল এরকম-

 

মাননীয় মহাশয়,

আমার পুত্রকে জ্ঞান অর্জনের জন্য আপনার কাছে প্রেরণ করলাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবেন এটাই আপনার কাছে আমার বিশেষ দাবী। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন- সকল মানুষই ন্যায়পরায়ন নয়, সকল মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে এও শেখাবেন প্রত্যেক বদমায়েশের মাঝেও একজন বীর থাকে। প্রত্যেক স্বার্থপর রাজনীতিকের মাঝেও একজন নির্মোহ নেতা থাকে। তাকে শেখাবেন প্রত্যেক শত্রুর মাঝে একজন বন্ধু থাকে।

আমি জানি এটি শিখতে তার সময় লাগবে, তবুও যদি পারেন তাকে শেখাবেন, পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান। এও তাকে শেখাবেন, কিভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কিভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দেবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগে ভাগেই বুঝতে শেখে, যারা পীড়নকারী তাদেরকে সহজে কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে

 

কি রহস্য লুকিয়ে আছে তাও তাকে বুঝতে শেখাবেন।

আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশী সম্মানজনক। নিজের উপর যেন তার সুমহান আস্থা থাকে। এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে। তাকে শেখাবেন, ভদ্রলোকের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। আমার পুত্র যেন সে শক্তি পায়, হুজুগে মাতাল জনতার পদাংক অনুসরণ না করার। সে যেনো সবার কথা শোনে এবং সত্যের পর্দায় ঢেকে ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে- এ শিক্ষাও তাকে দেবেন। দুঃখের মাঝে কিভাবে হাসতে হয় এবং কান্নার মাঝে যে লজ্জা নেই একথা তাকে বুঝতে শেখাবেন। যারা নির্দয়, নির্মম তাদেরকে সে যেন ঘৃণা করতে শেখে। আর অতিরিক্ত আরাম আয়েশ থেকে সাবধান থাকে। আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরন করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না। কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য্য হওয়ার সাহস না থাকে, থাকে যেন তার সাহসী হওয়ার ধৈর্য্য। তাকে এ শিক্ষাও দেবেন- নিজের প্রতি যেন তার সুমহান আস্থা থাকে, আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানব জাতির প্রতি।

 

 

Untitled

আরো খবর: