হাতুড়ে চিকিৎসা : শ্বাসনালীতে দাঁত আটকে শিশুর মৃত্যু

হাতুড়ে চিকিৎসা : শ্বাসনালীতে দাঁত আটকে শিশুর মৃত্যু

সবুজ বার্তা ডেস্ক:আশপাশে কোনো দাঁতের ডাক্তার নেই৷ তাই ছয় বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন দাঁত তুলতে৷ তাতেই হয় বিপত্তি৷ হাতুড়ে ডাক্তারের অপটু হাত ভেঙে ফেলে শিশুটির দাঁত৷ ভাঙা দাঁতের অংশ আটকে যায় শ্বাসনালীতে৷ অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝে শিশুকন্যাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই মৃত্যু হয় তার৷ রোববার পশ্চিবঙ্গের জয়নগরের মহিষমারি হাটের কাছে এ ঘটনা ঘটে৷

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷ বেগতিক বুঝে নিজের চেম্বার ও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত হাতুড়ে ডাক্তার শম্ভুনাথ মণ্ডল৷ তার বিরু‌দ্ধে জয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার শিকার শিশুটির নাম কণিকা নস্কর (৬)৷ সে জয়নগরের মহিষমারিরই বাসিন্দা৷ গত কয়েকদিন ধরেই দাঁতের যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছিল মেয়েটি৷ রোববার সকাল থেকে কান্নাকাটি শুরু করে সে৷ তার বাবা তাপস নস্কর মেয়েকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷

কিন্তু তাপসবাবুর বাড়ির ধারেকাছে কোথাও দাঁতের ডাক্তার নেই৷ দাঁত দেখাতে গেলে যেতে হবে জয়নগরে৷ রোববার ছুটির দিনে দাঁতের ডাক্তার না-ও থাকতে পারেন৷ তাই নিরুপায় হয়েই এলাকার হাতুড়ে শম্ভুনাথ-ডাক্তারের কাছে মেয়েকে নিয়ে যান তাপসবাবু৷ হিষমারিতে বহুদিন ধরেই ‘ডাক্তারি’ করছে হাতুড়ে ডাক্তার শম্ভুনাথ৷ হাটের কাছে তার বাড়ি৷ বাড়ির লাগোয়া চেম্বারেই বসত সে৷ কোনো ডাক্তারি ডিগ্রি ছিল না তার৷ কিন্তু এলাকায় চিকিৎসক না থাকার ফলে শম্ভুনাথই পসার জমিয়ে নেয়৷ জ্বর, পেট খারাপের চিকিৎসা থেকে শুরু করে দাঁত তোলা, যেকোনো রকমের ‘সমস্যার সমাধান’ করত সে৷ এলাকার বাসিন্দারাও অনেকটা বাধ্য হয়েই শম্ভুনাথের কাছে চিকিৎসার জন্য যেতেন৷

তাপস নস্কর তার মেয়ে কণিকাকে শম্ভুনাথের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর সে অপটু হাতে ‘সাঁড়াশি’ দিয়ে মেয়েটির দাঁত টানাটানি করতে শুরু করে৷ এর ফলে দাঁত না উপড়িয়ে সেটি আংশিকভাবে ভেঙে ফেলে শম্ভুনাথ৷ চিৎকার করতে থাকা কণিকার গলায় ঢুকে যায় দাঁতের টুকরো৷ শ্বাসনালীতে আটকে যায় সেটি৷ প্রায় দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় শিশুটির৷ তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে শিশুটিকে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে বলে ওই হাতুড়ে ডাক্তার৷ পরে জয়নগরের নিমপীঠ গ্রামীণ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়৷

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

আরো খবর: