একটি বাল্যবিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করল সারা বিশ্ব

একটি বাল্যবিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করল সারা বিশ্ব

সম্প্রতি যুদ্ধ বিধ্বস্ত চেচনিয়ায় এক সুন্দরী নাবালিকা লুইজা কিশোরীকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে ৫৭ বছর বয়সী পুলিশ প্রধান নাজহুদ গুচিগভের সঙ্গে। এই বাল্যবিবাহটি সম্পন্ন হয়েছে চেচেন প্রশাসনের সরাসরি সহযোগিতায়। বিবাহিত এবং কয়েক সন্তানের জনক নাজহুদ সপ্তদশী সুন্দরী লুইজা গয়লাভিয়েভাকে বিয়ে করে মহানন্দেই আছেন। আর লুইজা? তার রাতদিন কাটছে চোখের পানি ফেলে। প্রথম খেকেই বাবার বয়সী নাজহুদকে বিয়েতে লুইজার ঘোরতর আপত্তি ছিল।

কিন্তু পুরুষশাসিত চেচেন সমাজে তার আপত্তি পাত্তা পায় না। সে চোখের পানিতে বুক ভাসালেও সমাজপতিদের হূদয় এতটুকু গলেনি, চেচেন নেতা রমজানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তাকে জোর করেই বিয়ে দেয়া হয় পুলিশ প্রধান নাজহুদের সাথে। রাশিয়ার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেই বিয়ের আসরে যোগ দিয়ে মহাফুর্তিতে খানাপিনা করেন।

এই অসম বিয়ের ঘটনা প্রকাশিত হয় সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে। এরপর শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও চলছে রসাত্মক আলোচনা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইয়ালেনা মিলাশিনার কাছে লুইজার গ্রামের কিছু লোকজন এসে মেয়েটির দুর্গতির কথা তাকে জানান এবং বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশ করতে অনুরোধ করেন। গ্রামবাসীরা তাকে বলে, লুইজাকে পুলিশ প্রধানের হাতে তুলে দিতে মেয়েটির বাবা মাকে তারিখ বেধে দেয়া হয়।

অন্যথায় পরিণতি খুবই খারাপ হবে বলে তাদের হুমকি দেয়া হয়। আর হুমকিটা আসে এত উঁচু জায়গা থেকে, কার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে বিয়েতে আপত্তি করে।
চেচনিয়ায় এই বিয়ে কেলেংকারী নিয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা বিয়ের কারবার করিনা।’ এই কথার মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চাইলেন সৃষ্টিকর্তা মালুম!

 

সূত্রঃ বিডি ২৪ লাইভ

আরো খবর: