মানসিক প্রতিবন্ধি নুসরাত জাহান এর এগিয়ে যাওয়া

মানসিক প্রতিবন্ধি নুসরাত জাহান এর এগিয়ে যাওয়া

জিসান আহমেদ:  চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়ার এলাকায় বাসা। নুসরাত জাহান(১৬) এবার ছিল এস এস সি পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষায় পাশ করেছেও বেশ কৃতিত্বের সাথে। কিন্তু সেটা যেকোন সাধারন পরীক্ষার্থীর মতো করে নয়। নিজে হেঁটে চলতে না পারা ও ডান হাত অকেজো হওয়ার কারনে মায়ের কোলে চেপে কিংবা হুইলচেয়ারে করে পরীক্ষা দিতে যেতো মেয়েটি। আর পরীক্ষা কক্ষে যেয়ে ডান হাত অকেজো হওয়ায় নিজে লিখতে না পারায় শ্রুতি লেখক হিসেবে সহায়তা করতে হয়েছে আর একটি মেয়েকে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৪ দশমিক ২৮ পেয়েছে সে। জানা যায়, ২০১২ সালের অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সে জিপিএ-৩ দশমিক ২৯ পেয়ে পাস করে। একমাত্র সন্তানের সাফল্যে বাবা মাদ্রাসাশিক্ষক সাইফুল ইসলাম ও মা গৃহবধূ খালেদা ইসলাম দুজনই ব্যাপক খুশি।

নুসরাত জাহান বলে, তার পরীক্ষার কেন্দ্র চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তার বাসা থেকে প্রায় ৫কিলোমিটার দুরে। সে সময় এই ৫কিলোমিটার রাস্তা তাকে হুইলচেয়ারে করেই পাড়ি দিতে হয়েছে। আর দোতালায় তার পরীক্ষার হল হওয়ায় মায়ের কোলে চেপে কক্ষে পৌঁছাতে হয়েছে। আবার পরীক্ষা শেষে এভাবেই নেমে হুইলচেয়ারে করে বাড়ী ফিরতে হয়েছে।

যশোর বোর্ডের পরীক্ষক নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে এবার শ্রুতি লেখক হিসেবে সহায়তা করেছে হাজরাহাটি-তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রিতু খাতুন।

নুসরাতের মা খালেদা ইসলাম বলেন, মস্তিষ্কে সমস্যাজনিত রোগের কারণেই শিশুকাল থেকেই নুসরাতের দুই পা ও ডান হাত অকেজো। তাকে দৌলাতদিয়াড় ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করায়। এরপর বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরের চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়।

নুসরাতের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ১ম শ্রেণী থেকেই সে পড়াশুনায় বেশ ভালো। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত সে কোনো দিন কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়নি। এছাড়া স্কুলে তার সুনামও রয়েছে ভালো। কিন্তু তাদের বাসা থেকে চুয়াডাঙ্গার সব কলেজের দুরুত্ব ৭-৮কিলোমিটারের বেশী। তাই তার কলেজে ভর্তি এবং যাতায়ত নিয়ে একটু চিন্তার ভিতরে রয়েছে তিনি।

আরো খবর: