শিশুদের জন্য আই.সি.টি

শিশুদের জন্য আই.সি.টি

 সিনাম: আইসিটি – এর পূর্ণ রূপ হল – “Information and Communication Tecnology” যার বাংলা অর্থ হল – “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি”। আর দিন দিন এই প্রযুক্তি আমাদের নানান কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি সম্পর্কিত কাজকর্ম প্রতিনিয়ত বাড়ার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে যেন প্রযুক্তি মানুষের পেছনে ছুটছে, মানুষ প্রযুক্তির পেছনে ছুটছে।

প্রতিনিয়ত সব কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার কারণে মানুষও অনেকটাই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তির এই ছোঁয়া শিক্ষায় লাগার কারণে শিক্ষক সহ ছাত্র – ছাত্রীরাও ধীরে ধীরে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর হয়ে পরছে।

আর এগুলোর সংস্পর্শে এসে অনেক শিশুরাও বিভিন্ন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর হয়ে পরছে। যেমনটা আজ-কাল বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্কুল, কলেজ গুলোর পাঠদান পদ্ধতি এখন আস্তে আস্তে ভার্চুয়াল হয়ে যাচ্ছে। এজন্য এখন পাঠদান শুধু শিক্ষক নির্ভর থাকছে না। ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এসে তাদের কাছে থাকা আইসিটি যন্ত্রাংশের মাধ্যমেই তার সব পাঠ তৈরি করে ফেলতে পারছে। আর ভার্চুয়াল শ্রেণি কক্ষের সুবিধা থাকার। ধরুন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও শিক্ষক পাঠদান চালিয়ে যেতে পারছেন। এতে করে শিক্ষক যেকোন জায়গায় থেকেও পাঠদান চালিয়ে যেতে পারছেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের যখন কোন দরকারি বই বা নোট প্রয়োজন হয় তখন তারা অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই নিজের লেপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে সেই বই বা নোট দেখে পড়ে নিতে পারে, কিংবা পুরো বই ডাউনলোড করে নিয়ে সে সেটা প্রিন্ট করে নিয়ে বই আকারে বাঁধিয়েও নিতে পারে। আর এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়ায় যেমন সুবিধা হয়েছে তেমনি শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতিও অনেক সুবিধাজনক হয়েছে। আজ আমরা নিজের ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারছি।

আই.সি.টি ব্যবহার করে শিক্ষাদান পদ্ধতি শিশুদের কাছে বেশ। উপভোগ্য হওয়ার কারণে শিশুরাও লেখাপড়ার প্রতি বেশ আগ্রহী হচ্ছে। ICT ব্যবহার করে শিক্ষা গ্রহণ করার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়তি কোন শিক্ষকের সাহায্য নিতে হচ্ছে না। এজন্য ব্যস্ত অভিবাবকদের নিজেদের ছেলে-মেয়েকে বাড়িতে কষ্ট করে পাঠ তৈরি করে দিতে হচ্ছে না। তারা নিজেদের পাঠ নিজেরাই তৈরি করতে পারছে এবং পরীক্ষাতে ভালো রেজাল্ট করতে পারছে।

আই.সি.টি -র যথোপযোক্ত প্রয়োগ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আই.সি.টি ব্যবহারের ফলে আমাদের দেশের শিক্ষার মান যেমন দিন দিন বাড়ছে তেমনি আমাদের দেশের ছাত্রসমাজ ও শিশুসমাজও দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। এই কার্যক্রম এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেশ একদিন বিশ্বের মানচিত্রে আলোকিত দেশ হিসাবে দন্ডায়মান হবে।

আরো খবর: