সর্বশেষ:

একুশ কার

একুশ কার

একুশ কার
সুজলা সুফলা বাংলার মাটির প্রতি বরাবর আকৃষ্ট করেছে ভিনদেশীদের। সাফল্যের সাথে ব্যার্থতা আর ব্যার্থতার সাথে সফলতা দুটি একটি আরেকটির সাথে নিবির সম্পর্ক । সাফলতাটা সব সময় বেশি চাওয়া হয় কিন্তু সবার কাছে কি ধরা দেয় ?

ঠিক তেমনি ঘটেছে বাংলার মানুষের কাছেও । ব্যার্থতা আর গ্লানীময় যখন শুরু হয় তখন সুখ কি জিনিস তা জানার উপায় নেই ! এক সময় বাংলার মানুষের গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ছিল। দুঃখ কষ্ট আর অভাব কী মানুষ জানত না ।

বাংলার এই ধন সম্পদদের কথা শুনে বিদেশী বণীকেরা এই দেশে বার বার এসেছে। আর লুটপাট করেছে এ দেশের অনেক মূল্যবান সম্পদ ও। শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা এ দেশকে শ্বাষোণ শোষন করে যায়। ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধের কথা শুনেছি। আর সেই যুদ্ধেতে পতন ঘটে নবাব সিরাজ উদ্-দৌলা অর্থাৎ বাংলার শেষ স্বাধীন নাবাবের পতন ঘটে। সেই একের পর এক ব্যার্থতা আর শোষনের বিরুদ্ধে আন্দোলন হতে থাকে । আর ফকিরের কাজ বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করা । কিন্তু ইংরেজরা কিছু কারণ দেখিয়ে ভিক্ষা করা যাবেনা বলে জুড়ে দিলেন আইন । সেই সময়টা ১৭৬০ সাল। শুরু হয় ফকির বিদ্রোহ । আমি যতটুকু জানি বাংলার মানুষ সব সময় স্বাধীনচেতা ছিল । ইংরেজদের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয় তাহলে সেটাই দোষ। ঠিক তেমনি ঘটে তিতুমীরের ক্ষেত্রে ।

শুরু হয় তিতুমীরের বিদ্রোহ। খন্ড কালিন যুদ্ধও চলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে। ইংরেজরা ভারত উপ-মহাদেশ শ্বাষোণ করে । এর মধ্যে হয় অনেক আন্দোলন । আমার কাছে মনেহয় সবচেয়ে শক্তি শালী আন্দোলন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের । তার চিন্তা ভাবনা ছিল অন্যদের থেকে একটু অন্যরকম । তার মূল কেন্দ্র বিন্দু ছিল মানুষকে আগে শিক্ষিত করে তুলতে হবে ।

মানুষ শিক্ষিত হলেই হবে সচেতন। তখন তার ভাল মন্দ সম্পর্কে সে নিজেই বুঝতে জানবে। “গ্রাম বার্তা” পত্রিকা ছিল বাংলার সর্ব প্রথম পত্রিকা। তার পত্রিকার মাধ্যমে ইংরেজদের শ্বাষোণ শোষনের কথা, সাধারণ কৃষকের কথা তুলে ধরেছেন । প্রায় ২০০ বছর শ্বাষোণ শোষনের পর ১৯৪৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়ে যায়। তৈরি হয় দুটি রাষ্ট্র। হিন্দু স্থান পাকিস্থান।

কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার যে পাকিস্থান ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্থান। আরেটি মজার ব্যাপার হলো পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্য দুরুত্ব ছিল প্রায় তিন হাজার কি.মি.। পূর্ব পকিস্থান ও পশ্চিম পাতিস্থানের একমাত্র ধর্মছাড়া অন্য সব সাংস্কৃতি ছিল বৈশাদৃশ্য। পূর্ব পাকিস্থানের ভাষা ছিল বাংলা জনসংখ্যাও ছিল বেশি । আরেকটা মজার ব্যাপার হলো অশিক্ষিতও ছিল বেশি । পাকিস্থানের স্রষ্টা ও প্রথম গর্ভনর জেনারেল মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষনা করে উর্দুই হবে এক মাত্র রাষ্ট্র ভাষা।

১৯৪৮ সালে জানুয়ারী মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্জন হলে ছাত্র শিক্ষক না..না..না.. ধ্বনিতে প্রতিবাদ জানায়। দেশের শিক্ষাবীদ সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজিবী এবং অধিকাংশ নেতারা বাংলা ভাষার পক্ষে অবস্থান নেন পাকিস্তানের গণপরিষদের বাঙ্গালি সদস্য হিসেবে ধীরেন্দ্রনাথ রাষ্ট্র ভাষার পক্ষে প্রস্তাব করেন। পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের বিরোধীতা করেন। ১৯৪৮ সালে ১১ ই মার্চ ভাষার দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হলে আলি আহাদ, শেখ মুজিব সহ অধিকাংশ নেতা গ্রেফতার হন। দমন পিরনের আন্দোলন চলতেই থাকে।

আর এই আন্দোলনের রেশ ধরেই ১৯৫২ সালে ঢাকায় গণ-পরিষদের অধিবেশন বসলে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে স্বারক লিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই দিনটি ছিল বাংলার ৮ই ফাল্গুন। মুখ্যমন্ত্রী নরুল আমিনের নেতৃত্বে তথকালিন সরকার ছাত্রদের বাধাদেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। “তোদের তিন জনের বেশি আমি থাকতে দিব না”। কিছুটা এমনই ভাষ্য ছিল পাকিস্তানিদের। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র সমাজ মিছিল বের করে। পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও কাদানে গ্যাস ছুড়ে। আন্দোলন দামাতে না পেরে পুলিশ গুলি চালায়।

গুলিতে শহীদ হন রফিক, শফিক, জব্বার, সালাম, বরকত । আর এই দিনে অবদান ছিল এক শিশুর। রফিক, শফিকের সাথে অহিউল্লাহ(৮-৯) নামে এক শিশু শহীদ হন। যেখানে ছাত্র হত্যা করা হয় সেখানে তৈরি করা হয় একটি অস্থানীয় শহীদ মিনার। ঠিক ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে গড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা স্বিকৃতির মাধ্যমে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। উর্দু ও বাংলা দুই ভাষা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে।

এরই মাঝে ঘটে যায় অনেক ঘটনা। দীর্ঘ ১৯ বছর পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্র জন্ম দেওয়ার জন্য যুদ্ধ করে বাংলার মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধেরপর ৩০ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত হয় প্রানের বাংলাদেশ। তারপর স্কিকৃতি হিসেবে পাই ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা । বিশ্বের সকল দেশ এমনকি পাকিস্তারাও এই দিনটেকে স্বরণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। পাইলাম স্বাধীন দেশ পাইলাম নিজের ভাষা কিন্তু পাইলাম না আমার অধিকার। এক সময় বড়দের মুখে শুনেছি , “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।” কিন্তু নিজেই এখন আমি এর মর্মটা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। আমি কিন্তু বলতে চাচ্ছিনা যে, আমরা স্বাধীন জাতি হয়েছি কেন।

কিন্ত এখনো বাংলার মানুষ পায় না তাদের সম্পূর্ন অধিকার। এখনো স্বাধীন বাংলার মানুষ শতকরা ৮০ই ভাগই দরিদ্র বলা চলে। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেল ও আজও আমাদের দেশত্ব বোধ আজও জেগে উঠেনি। পুনশ্চ করে দিলে ভাল মনে হয়, আগে ছিলাম অন্যের দ্বারা শ্বোষিত এখন আমরা নিজেদের দ্বারাই। “আগে নিজে খাইয়া লই পরে দেখুম নে” এটার প্রচলনটা একটু বেশী চলছে বর্তমানে। মাঝে মাঝে মনে হয় সোনার বাংলা এখন দূর্নিতীর বাংলায় জর্জরিত।

কিভাবে আমরা পিছনের কথা পুনশ্চ করবো তারই কোন রাস্তা নেই আমাদের মনে। আমার সোনার বাংলা কবে সোনার বাংলা হবে আর হবেই বা কি করে । বাংলার পাশে নাহি কেউ। এখনো হয় গুম হত্যা। রাজনীতির নামে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংশ করার পায়তারা করা। সেবার নামে লুটে পুটে খাওয়াই আমাদের ধর্ম ।

দেশরে মানুষ করার নামে নিজেই বনে যায় অমানুষ । প্রত্যেক মানুষকে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের কথা ভাবলে আজ আমার সোনার বাংলা এ রকম হতোনা। আমরা ৮ই ফাল্গুন বলি আর ২১শে ফেব্রুয়ারী ই বলি এটি শুধু দিবস পালন করার জন্য নয়। প্রত্যেকটি জিনিসের মত এটাও একটা বৃক্ষ। যার বীজ শেকর থেকে আরো দূরে। ৫৪ এর যুক্তফন্টের জয় ৭১ এর সংগ্রাম,৭১ এর সংগ্রাম, ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবই তারই ফল স্বরূপ। কিন্তু কোন কিছুই পরিচর্যা ছাড়া টিকে থাকে না। সেই পাক শাসনের বিরুদ্ধে এত আত্বত্যাগের পর কেন সেই পাক শাসনই ফিরে আসছে। কেন আজ জাতীয় নেতারা খুন হয় ? কেন আজও চলে সেই গুম হত্যা ?

কেন আজ আমি সুষ্ঠ ভাবে দিতে পারিনা আমার জিবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ পরীক্ষা গুলো। আর কেনইবা আজও চলে ক্ষমতার দাপট ? তার জন্যই কি আজও আমরা চোরের জাতি। হয়তো শেখ মুজিব ঠিকই বলেছিল “সবাই পায় স্বর্ণের জাতি আর আমি পেলাম চোরের জাতি”! চাইনা আর চোরের জাতি হিসেবে পরিচয় দিতে। মুছে ফেলতে হবে সব কলঙ্কের দাগ। আবার জাগ্রত করতে হবে একত্ববোধ।

আরো খবর: