চিড়াখানায় বন্যপ্রাণীর থাকার কথা

চিড়াখানায় বন্যপ্রাণীর থাকার কথা

12175846_190787744589218_786501967_o-sobuj bartaসবুজ বার্তা ডেস্ক: বনে বাস করে যেসব প্রাণী, তাদের বলা হয় বন্যপ্রাণী। এ প্রাণীগুলোর মধ্যে কিছু আছে দেখতে বিশাল আকৃতির। যেমন: হাতি, জিরাপ জলহস্তি ইত্যাদি। কিছু আছে খুবই হিংস্র। এরা অন্য প্রাণী শিকার করে খায়। যেমন: বাঘ, সিংহ, চিতা, হায়না ইত্যাদি। আবার কিছু প্রাণী আছে যেগুলো আকারে হাতির মতো বড়ও নয়, আবার সিংহের মতো হিংস্রও নয়, তবে খুব দুর্লভ বিরল প্রজাতির প্রাণী। সব সময় দেখা যায় না সেগুলো। এসব প্রাণী সম্পর্কে জানার আগ্রহ মানুষের অনেক দিনের। এ জন্য প্রাণীগুলোকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে রাখা হয়। এ জায়গার নাম চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানার ইংরেজি নাম জু।

বিনোদনের জন্য মানুষ আসে চিড়িয়াখানায়। অজানা, অচেনা প্রাণীগুলো দেখে বিশেষ করে শিশুরা আনন্দ পায়। সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারে। বিজ্ঞানীরা প্রাণীগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করে। এ জন্য নিয়মিত তাদের সংস্পর্শে আসার প্রয়োজন পড়ে। অনেক প্রাণী আজ নানাবিধ কারণে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এসব কারণে বনের পশু আটকে রাখা হয় চিড়িয়াখানায়। অজানা প্রাণীগুলো সম্পর্কে জানতে আমরা চিড়িয়াখানায় যাই। কিন্তু আমরা কী জানি, কবে থেকে সৃষ্টি হয়েছে চিড়িয়াখানা? আজ জানব চিড়িয়াখানার সৃষ্টি সম্পর্কে।
খ্রিস্টপূর্ব ১১৫০ সালের কথা। প্রাচীন চিনের একজন সম্রাট প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন চিড়িয়াখানা।

তিনি কতগুলো হরিণ, কিছু পাখি এবং বিভিন্ন প্রজাতির কিছু মাছ সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে আটকে রাখেন। বর্তমানে বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় যেভাবে প্রাণী খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়, সেগুলোও একইভাবে বন্দি করে রাখতেন। অবশ্য সে সময় সবাই সম্রাটের এ চিড়িয়াখানায় যাওয়ার সুযোগ পেত না। শুধু সম্রাট ও তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং পরিষদের লোকরাই দেখার সুযোগ পেতেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে বনের পশু ধরে এনে চিড়িয়াখানায় আটকে রাখা এবং তাদের খাবার-দাবার দিয়ে পরিচর্চা করা সহজ নয়। এটি একটি ব্যয়বহুল কাজ।

তাই ধনী সম্রাট এ উদ্যোগ নেন।

সবার জন্য উন্মুক্ত এমন কোনো চিড়িয়াখানা প্রথম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে। এখানে পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল বন্য পরিবেশ। সৃষ্টি করা হয়েছিল জলজ পরিবেশও। এ পরিবেশে বন থেকে আনা হয়েছিল হাতি, ঘোড়া, জিরাপ, বাঘ, ভাল্লুক ও সিংহের মতো বন্যপ্রাণী। দুর্লভ পাখি এবং জলাশয়ের জন্য আনা হলো জলহস্তি, কুমিরের মতো জলজ প্রাণী। এখানে একটি জাদুঘরও থাকে। ১৮২৯ সালে লন্ডনের রিজেন্ট হোটেলে নির্মিত হলো আরেক চিড়িয়াখানা। এরপর ১৮৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানা বার্লিনে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো চিড়িয়াখানা। ১৮৭৪ সালে নির্মিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া চিড়িখানয়াখানা। এখানে আসার সুযোগ ছিল সব মানুষের। এর পর এল সিনসিনাটি চিড়িয়াখানা। বর্তমানে পৃথিবীর ছোটবড় অনেক শহরে চিড়িয়াখানা আছে, যেখানে সাধারণ মানুষ আসা যাওয়া করে।

সৃএ-অামাদের  সময়

এসবি-ভিন্ন বার্তা/২২ অক্টোবর,২০১৫/সাজিদ

আরো খবর: