কসাই পাখি

কসাই পাখি

ভিন্ন বার্তা ডেস্কঃ কসাই পাখি নামটা একটু অন্যরকম মনে লাগারই কথা ।এই সব পাখি আমরা অনেকই দেখেছি কিন্তু নাম জানি না । তবে এই সব কসাই এখন কিছুটা বিরল প্রকৃতির । চলুন যেনে নিই এই কসাই সম্পর্কে:-

brown_shrike_(lanius_cristatus)-_immature_in_kolkata_i_img_0147sobujbarta
প্রাস্ত বয়স্ক কসাই

গণে যে ৩১ প্রজাতির (মতান্তরে ৩ গণে ৩০ প্রজাতি) কসাই দেখতে পাওয়া যায়, তারা সকলেই Laniidae (ল্যানিডি) গোত্রের অন্তর্গত। কসাই পাখি গুলো দুইটি প্রজাতি, মোটামাথা কসাই (Lanius ludovicianus) আর বড় মেটেকসাই (Lanius excubitor)।

সবচেয়ে বড় গণ ল্যানিয়াস নাম এসেছে ল্যাটিন lanius থেকে যার অর্থ কসাই। এদের অদ্ভুত শিকার ধরার এবং সংরক্ষণ করার প্রবণতার জন্য এদের নাম হয়েছে কসাই। এরা শিকার ধরে ঠিক কসাইয়ের দোকানে মাংস গাঁথার মত করে শিকারকে কাঁটা বা অন্য কোন চোখা জিনিসে গেঁথে রাখে ।
এদের স্বভাব গুলো অন্যান্য পাখির থেকে অনেকটাই আলাদা যা নাম শুনলেই বুঝা যায় ।
এই পাখি সাধারণত বিভিন্ন পোকামাকড় থেকে শুরু করে ইঁদুর, টিকটিকি, ছোট পাখিও ইত্যাদি শিকার করে থাকে। অর্থাৎ তাদের শিকারোপযোগী সব কিছুই তারা খায়। এরা শিকারকে গেঁথে রাখে।

কারণ এর ফলে শিকার ছোট টুকরায় বিভক্ত হয় আর তাতে খাওয়া সহজ হয়। এটাকে খাদ্য সংরক্ষণেরও একটা উপায়ও বলা যেতে পারে । আবার এভাবে বিষাক্ত পোকামাকড় গেঁথে রাখলে তাদের বিষ নিঃশেষ হয়ে যায় এবং দুই-একদিন পরে তা খাওয়া যায়।

এই সব পাখি গুলোর ব্যাবহার কিছুটা রাজাদের মত অর্থাৎ এরাও এলাকাকাতর এক এলাকার পাখি তার এলাকায় অন্য পাখির অনুপ্রবেশ বরদাশত করে না। এমনিতে এরা একাকী চলাফেরা করে কিন্তু প্রজনন মৌসুমেই জোড় বাঁধে। এসময়ও এদের এলাকাকাতরতা প্রকাশ পায়। পরিযানের সময় এরা নিজেদের জন্য আলাদা এলাকা ঠিক করে নেয় এক এলাকায় অনেক কসাই পাখি অবস্থান করলে এলাকার দখল নিয়ে এদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

কসাই পাখি সাধারণত শিকার ধরার উদ্দেশ্যে বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তরের কোন এক উঁচু ডালে বসে থাকে। নিজ এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য এভাবে বসে বসে এলাকা নজরে রাখে।

bay-backed_shrike_(lanius_vittatus)_in_kolkata_w_img_4551sobujbarta
তামাপিঠ কসাই ।

অধিকাংশ কসাই পাখির আবাস ইউরেশিয়া আর আফ্রিকায়। দক্ষিণ আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়ায় এর কোন প্রজাতি দেখা যায় না, তবে একটি প্রজাতি নিউ গিনি পর্যন্ত বিস্তৃত। কসাই পাখিরা আকারে ২০ থেক ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।

এদের ঠোঁট খুব বলিষ্ঠ, পাশে চাপা, আগায় ‘দাঁত’ বা গভীর খাঁজ থাকে।অধিকাংশ কসাই পাখি খোলা তৃণভূমি, আবাদি জমি, সাভানা বা স্তেপ অঞ্চলে বসবাস করে।

গুটিকয়েক প্রজাতিকে ঘন বনে দেখা যায়। কিছু প্রজাতি গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে প্রজনন করে এবং শীতকালে দক্ষিণে পরিযায়ী হয়ে আসে। এরা উত্তর আমেরিকায় প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করে থাকে ।কসাই পাখি গুলোর দেহ ধূসর বা বাদামি রঙের প্রাধান্য থাকে, সাথে সাধারণত লালচে, কালো বা সাদা রঙের সহাবস্থান থাকে। ডাক খুব তীক্ষ্ন।

 

 

সকল তথ্যঃ অনলাইন

এসবি- ভিন্ন বার্তা/২৬ অক্টোবর, ২০১৫/ মুসাব্বির

আরো খবর: