ঘরে অভাব, হের লাইগ্যা পেটের টানে হকারের কাজ করি

ঘরে অভাব, হের লাইগ্যা পেটের টানে হকারের কাজ করি

গোপাল চন্দ্র দে(১৪),ভোলাঃ বাপে সংসার চালাইতে পাওে না, ঘরে অভাব। হের লাইগ্যা পেটের টানে হকারি করি। ১০০/১২০ টাকা পাই এই নিয়ে খুশি থাকি। সারাবিকালে লঞ্চে থাকিয়া পানির বোতল, কলা, রুটি, ঝাঁল মুড়ি বিক্রি করিয়া জীবনটা কাটাইয়া দেই। অত্যন্ত করুনস্বরে ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চ ঘাটে হকার শিশু মোহাম্মদ আলী (১২) এ কথাগুলো বলেছিলেন।

সে জানায়, তার বাড়ি লালমোহন মদবার বাড়ী গ্রামে। পিতা হানিফ চট্টগ্রামে থাকেন। সেখানে কাজ করলেও নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারেননা। ৩ বোন এক ভাই। আমি এই ঘাটে হকারি করি। দৈনিক রুটি, কলা বিক্রি করে ১০০/১২০ টাকা লাভ হয়। এখান থেকে আমি কিছু খরচ করি, আর বাকি টাকা বাড়িতে পাঠাই। সেটা দিয়ে কোন রকম আমার সংসারের খরচ মেটানো হয়। মোঃ রাজু (১৩) বিএনপি বাজার এলাকায় তার বাড়ি।

অল্প বয়সেই বাবা হারালেন। ৫ ভাই আর এক বোন। অভাবের তাড়নায় সে পড়ালেখা ছেড়ে এই পেশায় এসেছে। হকার রাজু জানান, প্রতিদিন বিকেলে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সে পানির বোতল বিক্রি করে। পানি বিক্রি করে যা আয় হয় সেটা দিয়ে নিজের খরচ মিটিয়ে সংসারের জোগান দেয়।
শুধু মোহাম্মদ আলী কিংবা রাজু নয় এমন ভোলায় লঞ্চঘাটে হকার শিশু রয়েছে প্রায় ২০জন।

যারা অভাবের তারনায় শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তাদেও কাধে পানির বোতল, কলা, রুটি ইত্যাদিত বহন করে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ লঞ্চ থেকে ও লঞ্চ এমন করেই কেটে যাচ্ছে তাদের জীবন।
ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলা-ঢাকা রুটের ভোলা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে চলে তাদের তড়িঘরি। এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন হকার শিশুর সাথে। হকার শিশু মহিদ হোসেন (১২), জুয়েল (১৩), আরিফ হোসেন (১০) জানায়, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঘাটে হকারি করে আমরা জীবন কাটাই। এই কাজ করে আমরা প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা পাই। সেটা দিয়ে নিজের খরচ মিটিয়ে সংসারের হাল ধরি। আমাগো পেট তো বাচাতে হবে, তাই কষ্ট করছি। কারন একদিন কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না।

খেয়াঘাট লঞ্চঘাটের গ্লোরী অব শ্রীনগর-৭ এ থাকা দোকানদার আবুল হোসেন (৩৫) জানান, লঞ্চ ঘাটের এসব শিশু সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পড়ালেখা ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও দরিদ্রতার কারনে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে না। এরা ভুগছে নানা রোগে।
এয়াড়া এ ব্যাপারে কথা হয় লঞ্চের কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সাথে। তারা বলেন, হকার শিশুরা এই পেশায় জড়িয়ে থাকার কারন হলো দারিদ্রতা। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এরা যদি সকল সুযোগ সুবিধা পায় তাহলে পড়ালেখার প্রতি বেশি আগ্রহী হবে। এসব শিশুদেরকে স্কুলমুখী করতে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এসবি-সারাদেশ/১১ অক্টোবর,২০১৫/ ইসরাত

আরো খবর: