একদিকে পড়ালেখা, অন্যদিকে পরিবার

একদিকে পড়ালেখা, অন্যদিকে পরিবার

আরমান হোসেন, জামালপুর(১৭): আজ বিকেলে ঘুরতে বেরিয়ে ছিলাম। মনটা ভালো নেই। পরীক্ষার কারণে পড়ালেখার চাপে অনেকদিন ধরেই লেখালেখি করতে পারছি না নিয়মিত। বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের মাঝখান দিয়ে সরু একটা পথে হাটছি। হঠাৎ করে দুজন শিশু চোখে পড়ল।
চলন্ত অবস্থায় পথের মধ্যেই তাদের একটা ছবি তুললাম। চলন্ত অবস্থায় ছবিটা তেমন ভালো হল না। কিন্তু তাদেরকে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলা সম্ভব নয়। কারণ তারা নদী থেকে মাছ ধরে আনছে। আর সেসব মাছ বাড়িতে গিয়ে দ্রুত কেটে রান্না করতে হবে, না হলে মাছ নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ, অনেকক্ষণ আগে মাছ গুলো ধরা হয়েছে।

তাদের দুজনকেই পরিচিত মনে হচ্ছে। এর আগে আরও কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের সাথে। তাদের সাথে হাটতে শুরু করলাম। কথা হল তাদের সম্পর্কে। একজনের নাম সুমন অপরজন মোস্তাকিম। সুমন পড়ে ক্লাস সিক্সে আর মোস্তাকিম পড়ে ক্লাস থ্রী তে। দুজনেরই পরিবারের অবস্থা তেমন ভাল নয়। তাই তো পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা মেটাতে নদীতে নিয়মিত মাছ ধরতে যায় তারা। এতে করে পরিবারের মাছের খরচ টা বেঁচে যায়।

সুমন থাকে দাদা-দাদীর সাথে। তার বাবা-মা ঢাকার গাজীপুরে কাজ করে। তাদের সঙ্গে থাকে সুমনের ছোট ভাই সবুজ ও ছোট বোন সুমি। তাদের স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেও তারা স্কুলে যায় না। সারাদিন খেলাধুলা করে সময় কাটায়। সুমনের দাদা দিন মজুরের কাজ করে। দাদী সাধারণ গৃহিণী। খুবই অসচ্ছলতার মধ্য দিয়ে তাদের জীবন কাটে।

এবার আসা যাক, মোস্তাকিমের কথায়। তিন ভাই, এক বোন, দাদী ও বাবা-মা মিলে তাদের পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি মোস্তাকিমের বাবা। তিনিও একজন দিন মজুর। অভাব তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তাদের দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা দুজনই পরিবারের অভাব ও পরিবারের খরচ বাঁচাতে স্কুল থেকে ফিরে মাছ ধরে। তারা এ কাজটি গত ৩/৪ মাস থেকে নিয়মিত করছে। তারা মাছ ধরে বড়শীর সাহায্যে। বড়শীতে টোপ হিসাবে ব্যবহার করে কেচো।  বন্যার পানি থাকাকালীন তাদের বড়শীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ বিক্রি করে কিছু আয়ও হতো। এখন আর আয় হয় না। শুধু মাত্র পরিবারের চাহিদা টা মিটানো যায়। কারণ, এখন আর আগের
মতো মাছ ধরা পড়ে না।

তাদের সমবয়সী শিশুরা বিদ্যালয় থেকে ফিরে কেউ কেউ খেলাধুলা করে, কেউ কেউ ছুটোছুটি করে, কেউ বা আবার গল্পের বই পড়ে, অনেকেই গৃহ শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করে। কিন্তু তারা দুজন পরিবারের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত। তাই তারা বঞ্চিত হচ্ছে আনন্দময় শৈশব থেকে। ব্যাহত হচ্ছে তাদের মানসিক বিকাশ।

এসবি-গল্প/২৪ নভেম্বর,২০১৫/সাজিদ

আরো খবর: