স্বাধীন দেশেও শিশুরা পরাধীনতায়

স্বাধীন দেশেও শিশুরা পরাধীনতায়

মোঃ আরিফ জাওয়াদ(১৪), দিনাজপুর: স্বাধীনতা সবার প্রিয়। বনের পাখি থেকে শুরু করে সবাই পছন্দ করে স্বাধীন জীবন। মাত্র কয়েকটি বর্ণ নিয়ে গঠিত এ স্বাধীনা শব্দটি । কয়েকটি বর্ণ হলে কি হবে? কিন্তু এর ব্যাপকতা অনেক বিশাল । তার সুষ্ঠ দৃষ্টান্ত আমরা আমাদের অতীতের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেই দেখতে পাই। সেই আত্মত্যাগ ও উত্স্বর্গের ফসল আজ আমাদের স্বাধীনতা। এ স্বাধীন শিশু-কিশোরেরা রয়েছে পরাধীনায়। এ পরাধীনতার কারণেই তাদের অত্যাচার, নির্যাতন ও তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অনেক কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে এ পরাধীনতা নামক বেড়া জাল থেকে বের হয়ে আসতে অনেকেই বেছে নেয় আত্মহত্যা। যারা আত্মহত্যা করে তাদেরকে মনোরোগ বিজ্ঞানের ভাষায়। মানসিক রোগী বলা হলেও পরিবেশ তাদের মানসিক রোগীতে পরিণত করে। আমাদের দেশের অনেক কিশোর-কিশোরী আছে যারা পারিবারিক কলহের কারণে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। নিজেকে নিঃশেষ করে পরাধীন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল এক মুঠো শান্তির জন্য।

শুধু কি পারিবারিক কলহ? এর পাশাপাশি একটি হল কিশোরী শ্লীয়তাহানি। সমাজের এক শ্রেণীর হিংস্র হায়েনাদের থাবায় পড়ে এসব মেয়েদের হারাতে হয় কুমারিত্ব। কি অপরাধ ছিল এসব মেয়েদের? মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াই কি তাদের অপরাধ। যদি সে মেয়ে না হয়ে ছেলে হত, তবে তাকে কখনোই এই মানুষরূপী। হায়েনাদের থাবায় পড়তে হত না।
শুধু কি কিশোরীই?
সাম্প্রতিক গণমাধ্যমগুলোতে আলোড়ন সৃষ্টি করা একটি রির্পোটের নায়ক গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শাহাদত। সকালে চাচার সঙ্গে হাঁটতে বের হলে গুলিতে নেতিয়ে পড়তে হয় তাকে। দেশে একের পর চলেই চলেছে শিশু হত্যা, কিশোরী ধর্ষণ, শারীরিক মানসিক নির্যাতন। থেমে নেই এসব অত্যাচার। পরিবারের কাছে থেকে এসব শিশু-কিশোরদের হয় এসব মানসিক অত্যাচার। শিশু-কিশোরদের সাথে এ কেমন
বর্বরতা। শিশু-কিশোরদের পরাধীনার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কিশোরী জানায়, “মাঝে মাঝেই বখাটেদের খবলে পড়তে হয় আর শুনতে তাদের বাজে বাজে কথা। অভিভাবকে বলার কথা বললে বিভিন্ন হুমকি দেয়, যার ফলে অভিভাবকে বলার স্বক্ষমতা থাকে না”।
ভুক্তভোগী বেশ কিছু শিশু-কিশোর জানায়, পরিবারেই ইচ্ছে মত চলতে হয় তা-ছাড়া পিতা-মাতা বলবে ছেলে বেয়াদব হয়ে গেছে। তাদের পরাধীনতা জীবন যাপন করতে হয়। তাদের কোন স্বাধীনতা নেই। বাড়ি থেকে শুরু করে শুধু অন্যের মতামতের উপর ভর করেই তাদের চলতে। কারণেই হোক আর অকারণেই হোক অধিকাংশ শিশু-কিশোরই পরাধীনতার বেড়া জালে বন্দি হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। কেন শিশু-কিশোরদের পরধানীতায় থেকে মুখ বুজে তা সইতে হবে? পরিবার থেকে শুরু করে বাহিরের জগতের প্রতিটি ধাপেই তারা পরাধীনার শিকার। কারা তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেবে?

আরো খবর: