ঝরে পড়া কয়েক শিশু

ঝরে পড়া কয়েক শিশু

আসাদ্দুজ্জামন নূর(১৫), নীলফামারীঃ  নীলফামারী থেকে ২০ কি.মি. উত্তরে ডোমার থানার অন্তর্গত হলহলিয়া গ্রামের ডোগার হাটে বাস করে দশম শ্রেণী পযর্ন্ত পড়ার পর ঝরেপড়া শিশু মোবারক (১৬)। পরিবারের টানপোড়নের কারনে সে এখন একটি অটো-রিকশা চালায়। ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করে বড় কিছু হওয়ার। কিন্তু অভাবের পরিবার তা বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেনা। তার মা মরিয়ম বেগমকে তাকে পড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাবারে পোলারে তো পড়াইবারই চাই। কিন্তু  কি করমু? অভাবী সংসার । কাজ না করলে খাবো কি?”
ডোমার থানার অন্তর্গত নয়ানী গ্রামের নিমোজখানায় বাস করে তৃতীয় শ্রেনী পযর্ন্ত পড়ারপর পর ঝরে পড়া শিশু মিলন (১৬)।

বাবা ক্যাম্পনাথ রায় কৃষি কাজ করে অতি কষ্টে সংসার চালায়। জীবিকার তাগিদে বন্ধ হয়ে মিলনের পড়াশুনা। সে এখন একটা রাইসমিলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। পড়াশুনার ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে সে বলে, “ইচ্ছা তো আছে। কিন্তু উপায় যে নাই। বইপড়িলে কাজ করিমো কধ্ধন(কখন)? আর কাজ না করিলে পেটোত ভাত যাবে?” নয়ানী গ্রামের কাঠাঁলতলীতে বাস করে ৬ষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত পড়ার পর ঝরে পড়া শিশু সোহান (১৬)। বাবার বিবাহ্ বিচ্ছেদের পর বাসায় শুধুমাত্র সে আর তার বাবা থাকে। পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে সে এখন নিমোজখানার একটি চায়ের দোকানে কাজ করে। তারও পড়াশুনার ইচ্ছা আছে কিন্তু পারিবারিক অবস্থার কারনে সে পড়াশুনা করতে পারছেনা।
বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্য পরিবারের জীবিকা অর্জনে ঝরে পড়ছের সোহানদের মত হাজারো শিশু।

আরো খবর: