শরীয়তপুরে প্রস্তুতি ছাড়াই তরিঘরি করে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

শরীয়তপুরে প্রস্তুতি ছাড়াই তরিঘরি করে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

সিরাজুল ইসলাম আসিফ, শরীয়তপুর :

শরীয়তপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা । বুধবার দুপুর ২টা থেকে সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছে উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, কলেজ ও আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীবৃন্দ। মোট ৮টি বিষয়ে ১৮টি শাখায় শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে । বিষয়গুলো হলো কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, হামদ ও নাত, নৃত্য, জারীগান, একক অভিনয় প্রভৃতি । অনুষ্ঠানে বিচারক মন্ডলীর দায়িত্ব পালন করেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুর রহমান, সহকারী পরিদর্শক মোঃ আবু সুফিয়ান, একটি বাড়ি একটি খামার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপজেলা সমন্বয়কারী মীরন সরদার, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার ।
শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রতিযোগী, অভিভাবক ও দর্শকশ্রতা কেউই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি । অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ছিলোনা কোন আয়োজন । এত বড় একটি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের আয়োজনে একটি ব্যানার দেখা যায় নি । সাউন্ড সিস্টেম ছিলো ঘরমুখী । প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ কালে জানায়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছি কিন্তু এ ধরনের আয়োজন আর দেখিনি । এক মিনিটের বেশী সময় দেয় না তাই নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারিনি । তাছাড়া যাহারা বিচারক মন্ডলীর দায়িত্ব পালন করছে তারা কি ভাবে সকল বিষয়ের অভিজ্ঞ হলেন । একই বিচারক সকল বিষয়ে বিচার করে?

প্রতিযোগীদের সাথে আগত অভিভাবক জানায়, সংগীতের বিষয়ে বিচার করতে হলে সূর, তাল, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গী বিচার করে নম্বর দিতে হয়। এ বিচারকগণ কোন দিন সঙ্গীতানুষ্ঠানের দর্শক কাতারেও বসে নাই তারাই বিচার করছে সংগীত । এ ক্ষেত্রে সঠিক বিচার আশা করছি না ।

বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষকবৃন্দের সাথে আলাপ কালে জানায়, আজকের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান হাল ছাড়া মনে হচ্ছে । শিক্ষা সপ্তাহ
উপলক্ষে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে তা ঠিক আছে তবে মনে হচ্ছে শিক্ষা কর্মকর্তার এটা দায় ছিল । তাই তরিঘরি করে দায় মুক্ত হচ্ছেন । অনুষ্ঠানের বিচারক মন্ডলীর দিকে তাকিয়ে মনে হয়,‘স্বর্ণকার ছাড়া সোনা যাছাই হচ্ছে।”
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ৫ মে মন্ত্রনালয়ের চিঠি পেয়েছি । রবিবার মিটিং ডেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবগত করেছি । আগামী শনি ও রবিবার জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হবে । তাই তারাহুরো করে শেষ করতে হবে । সংগীতের সাথে সম্পৃক্ত কোন লোকদের বিচারক করা হলে তখন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তাদের পছন্দের প্রতিযোগীকে বাছাই করে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুষ্ঠানের সভাপতি । কোন অনিয়মের সম্ভাবনা নাই ।

আরো খবর: