এটাই কি আমাদের ভবিষ্যত!

এটাই কি আমাদের ভবিষ্যত!

তোয়াহা হাদি(১৭),সিলেট :- বলা হয়ে থাকে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। কিন্তু যখন এই ভবিষ্যতের পুষ্প মঙ্জুরি যদি এখনই না ফুটে ঝড়ে যায় তাহলে কি হবে আমাদের ভবিষ্যতের?

রাসেল নামের ছেলেটি থাকে সিলেটে অবস্হিত একটি বস্তিতে। বাবা-মা,ভাই-বোন মিলেই পাঁচ সদস্যের পরিবার তার।সে তার পরিবারের বড় ছেলে। সে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেছে। তার বাবা আগে একজন রিক্সা চালক ছিলেন। কিন্তু তার বাবা যখন একটি মরণ ব্যাধি রোগে আক্রান্ত হলেন, ঠিক তখনি তাদের টানা-পুরনের সংসারে নেমে আসে স্তবিরতা। তখন এই রাসেলকেই হাল ধরতে হয় তার পরিবারের জন্য। সুন্দর হাসি-খুশি পূর্ণ জীবন আর বন্ধু পূর্ণ খেলার মাঠ রেখে নামতে হয় জীবিকা নির্বাহের পথে।

আমাদের দেশে উচ্চ বা মধ্য বৃত্ত পরিবারে এই বয়সের ছেলে-মেয়েদের কে যে বয়সে একটি বালতিও বহন করতে দেয়া হয় না কিন্তু তাকে তার শরিরের চাইতেও দিগুণ ওজনের মানুষকে বহন করে তাদের গন্তব্য স্হলে নিয়ে যায়। বিনিময়ে পায় কিছু টাকা। যা দিয়ে চলে তার এই টানা-পুরণের সংসার আর তার বাবার চিকিৎসার খরচ। তার পরও তাকে হিমশিম খেতে হয়। প্রশ্ন করেছিলাম “এই যে গরমের মধ্যে রিক্সা চালাও কষ্ট হয় না।” উত্তরে বলল ”আমাগো আর ঠান্ডা গরম কি! রিক্সা চালাই প্রতিদিন দুইডা ট্যেয়া রুজি করি। তা দিয়াই ঘর ছলে। ব্যেমার বাপটার ঔষধের ট্যেকা হয়। তারপরও সংসার চলে না। ডাক্তার কইছে বাপরে ভালা করতে হইলে অনেক ট্যেকা লাগব। ট্যেকার দায় বাপরে ঘরে নিয়া আইছি আর বেমার কেমনে ভালা করুম।” প্রশ্ন করেছিলাম “এতে তুমার শরিরে কোন অসুবিধা করে না?”

উত্তরে বলল “করে তো। যহন সরাদিন রিক্সা চালাই বাসায় যাই তহন রাতে বুকের মধ্যে অনেক ব্যাথা হয়।” তার এই শেষ কথায় মনে হলো এখন তো তার জীবনটাই বিপদের মুখে। যখন ভাড়া দিতে যাই তখন বলল “ভাই ভাড়াটা পারলে একটু বেশি দিয়েন।” কিন্তু এই কথাটি বলার কারণে হয়তো অনেকের কাছে (যারা শ্রমের মূল্য দিতে জানে না) নির্যাতনের শিকার হতে হয়। জানি না আজ তার বাবা কোথায় আছেন কেমন আছেন। কিন্তু এটাই তো সত্য হয়তোবা জীবন সংগ্রামে একজন পরাজিত সৈন্যের মতো প্রতিদিনই যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

এইতো শুধু বাংলাদেশের একজন সংগ্রামী ছেলের গল্প। যার কিনা বয়স এখন পড়া-লেখা আর খেলা-ধুলা করে কাঁটাবার। কিন্তু পরিবারের দারিদ্রতার কারণেই আজ তাকে সবকিছু ছেড়ে জীবন সংগ্রামে নামতে হয়েছে। আমাদের দেশে এমন আর অসংখ্য রাসেল রয়েছে। যারা এই আর্থিক সংকটের কারণে একটি সুন্দর পৃথিবী থেকে বঞ্চিত। আমরা বৃত্তবানরা সবাই মিলে যদি এদের পাশে এসে দাড়াই তাহলে একটি পুষ্প মঙ্জুরি একটি পরিপূর্ণ সুন্দর ফুলের রূপ ধারণ করবে। আর এরা হবে আগামীদিনের সুন্দর ভবিষ্যত। রসেলদের মতো এভাবে মুকুলেই ঝড়ে যাবে না আমাদের দেশে বসবাসরত বঞ্চিত শিশুদের।যাদের বাবা-মা কেউ নেই,আবার জীবনের তাড়নায় যাদের বাবা-মা থাকা সত্বেও কাজ করে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

আরো খবর: