পারিপার্শিক জ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির সহায়ক

পারিপার্শিক জ্ঞান সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির সহায়ক

মনিরুজ্জামান রাফি(১৫)নেত্রকোণা: সম্প্রতি এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এসএসসি পরীক্ষায় (জি.পি.এ. ৫) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একটি সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশ্ন করা হলে বেশিরভাগ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি একজনও। শিক্ষার্থীদেরই কাছ থেকে এমন কিছু প্রশ্নের উদ্ভট উত্তর পেয়ে এক নিমিষেই নির্বাক হয়ে গেলো পুরো জাতি, হায় একি শুনলাম?
বর্তমান শিক্ষাক্ষেত্রে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আড়াল করার মতো একটুখানি জায়গা কোথাও নেই, ফেসবুক, টুইটারের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এখন সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় এটি। সেখানে নানাজন নানানরকমভাবে এর প্রতি লজ্জাতুর ভাব পোষন করছে,আবার কেউ কেউ সেই শিক্ষার্থীদের ছবির সাথে নানান তাচ্ছিল্যসূচক কথা জুড়ে দিয়েছে, এতে করে একদিকে শিক্ষার্থীদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ভাইয়েরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের এমন পরীক্ষা না নিয়ে, তাদের একটি জরিপ করে তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারতেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদগন মনে করেন “আজকাল শিক্ষার্থীরা জি.পি.এ ৫ পেয়ে তার মেধার প্রমাণ দিলেও মৌলিক জ্ঞান অর্জনের দিক থেকে তাদের মেধা এক্কেবারে শুন্যের কোঠায়। এছাড়াও শুধুমাত্র পাঠ্যবই বা সিলেবাস এ উল্লিখিত বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলেই হবে না,দেশের একজন সৎ নাগরিক হিসেবে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও জানতে হবে অনেক কিছু, জানতে হবে বাংলাদেশের সাহিত্য,সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে। আর এব্যাপারে আমার মনে হয়,
বর্তমানে প্রায় সকল শ্রেণীর শিক্ষা ক্ষেত্রে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব এবং গ্রহনশীলতা পেয়েছে। আর সৃজনশীল মানে নিজ হতে আবিষ্কার করার সুষ্ঠু মানসিকতা পোষণ করে জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কোন কিছু সৃষ্টি বা আবিষ্কার করাই হল সৃজনশীল,তাই এ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মুখস্ত বিদ্যার চেয়ে, পারিপার্শিক জ্ঞান বেশী প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে।
এজন্য শিক্ষার্থীদের মুখস্তবিদ্যার চেয়ে প্রয়োজন পারিপার্শিক জ্ঞান।আর তাই একজন শিক্ষার্থীকে বইয়ের বাইরে অনেক কিছু জানতে হবে। তবেই সে কোন কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে নতুবা সে সেই উত্তরের সঠিক অবকাঠামো টাই তৈরী করতে পারবে না।

আরো খবর: