সর্বশেষ:

প্রিয় কবি “দুখু মিয়া”

প্রিয় কবি “দুখু মিয়া”

মনিরুজ্জামান রাফি(১৫)নেত্রকোণা: বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ )ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলারআসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন।

যবে থেকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই বিদ্রোহী কবি হিসেবে চিনে আসছি কাজী নজরুল ইসলামকে। তার সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলাম আমাদের পাঠ্যবইয়ে “দুখু মিয়া “নামক গল্পে। জানতে পেরেছিলাম তার দুঃখ দূর্দশার কথা। জানতে পেরেছি তার দুঃখের করুন ইতিহাস।
আর তখন থেকেই আমার কাছে তার পরিচয় দুখু মিয়া হিসেবে। দারিদ্রতার কষাঘাতে তিনি বড় হয়েছেন,তিনি নানা পেশায় কাজ করেছেন কখনো তিনি ছিলেন ইমাম কখনো বা মুয়াজ্জিন, কখনো ছিলেন লেটো গানের গায়ক ও গান রচয়িতা, একসময় তিনি সেনাবাহিনীতেও যোগদান করেছিলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এসই পেশার সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি পাঁচ টাকা বেতনে রুটির দোকানেও কাজ করেছেন।

ছোটদের তার কিছু লেখা যেগুলো খুবই চমকপ্রদ ছিলো। এগুলোর মাঝে “চল চল চল “কবিতাটিই বেশী মনে পড়ে। এছাড়াও আছে “বিদ্রোহী কবিতা” যা এখনো সাধারণ মানুষের প্রাণের সাথে আষ্টে পিষ্টে ভাবে মিশে আছে। এখানে তিনি তার লিখনী দ্বারা তার বিদ্রোহীতার পরিচয় দিয়েছেন।
তার কলমের প্রতিটি আচড়ে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তখনকার সময়ের চারপাশের পরিবেশ। তার বিদ্রোহীতার জন্য তাকে বারবার কারাভোগ করতে হয়েছে , কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর লোহার বেড়ীবাঁধ ভেদ করেই তিনি তার বিদ্রোহীতার কঠোর মনোভাব পোষন করেন।

তিনি শুধু কবি ই নন তার পাশাপাশি তিনি ছিলেন উপন্যাসিক,গীতিকার, সুরকার নাট্যকারও এছাড়া আমরা তার গজল লিখার প্রতিও তার লিখনীর কদর দেখতে পাই। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয়।

১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। যা বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানসূচক পদক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় , (৭৭ বছর) বয়সে ঢাকায় পিজি হাসপাতালে তার জীবনাবসান ঘটে। এর পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবিকে দাফন করা হয়।

আরো খবর: