‘শিশু’ থেকে যত ‘বড়’ হই, ততই কি নিষ্ঠুর হই?

‘শিশু’ থেকে যত ‘বড়’ হই, ততই কি নিষ্ঠুর হই?

বড়রা যদি বুঝতো ছোট বেলায় তাদের প্রহার করলে কেমন লাগতো তাহলে আর শিশুদের প্রহার করতো না ।

 

শিশুর হাসি দেখে কার মন ভালো হয় না এমন মানুষ খুজে পাওয়া কষ্টকর ! তবে শিশুর হাসি মন দিয়ে দেখে বা ক’জন! আর শিশুর কান্নাই বা দেখে ক’জন ? পৃথিবীর সব জায়গায় দূর্বলে উপর চলে অত্যাচার । আর আমাদের সমাজে শিশুরা সবচেয়ে ‘দুর্বল’, তাই অত্যাচারও বেশি সইতে হয় তাদের৷ শিশুকে অত্যাচার বা নির্যাতনের সামাজিক নাম ‘শাসন’ করা বলা হয় ৷ মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়ার পান-বিড়ির দোকানদার, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাই শাসক ৷

এই শাসকদের মধ্যে প্রায় সবাই-ই মনে করেন, সবচেয়ে কার্যকর শাসন হলো ‘প্রহার’ করা ৷ সেই প্রহারের ‘স্বাদ’ পেতে জন্মের পর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয় না শিশুদেরকে ৷ বেশির ভাগ শিশু কথা বলা বা হাঁটা শেখার আগেই চড়-থাপ্পর খেতে শুরু করে নিজের ঘরে৷

শিশু খেতে না চাইলে মা-এর থাপ্পর, বাড়িতে নালিশ এলে বাবার পিটুনি – এ সব একসময় গায়ে সয়ে যায়৷ স্কুলে লেখাপড়া শুরু মানেই শিক্ষকদের ‘শাসন’ শুরু৷ শাসনের জন্য সেখানে আবার নানা ধরনের ‘হাতিয়ার’ চাই৷ বেত, স্কেল, ডাস্টার, পেন্সিল – যাঁর যা পছন্দ৷ পড়া না পারলে মার, ক্লাসে দুষ্টুমি করলে মার, স্কুল ফাঁকি দিলে মার….শুধু মার…৷ শিশুদের ‘শায়েস্তা’ করার সুযোগ পেলে কে ছাড়ে?

বাড়িতে নিজের সন্তানের বয়সি শিশু গৃহকর্মীকে শাস্তি দিতে চিরুনি, বটি, খুন্তি যা হাতের কাছে পান, তা দিয়েই পেটান গৃহকর্ত্রী৷ কর্তাও এগিয়ে এলে শুধু দারিদ্র্যের কারণে মায়ের কোল ছেড়ে আসা শিশুটির হাসপাতালে ঠাঁই নিতে দেরি হয় না৷

বাবা-মায়ের আর্থিক অক্ষমতার কারণে ওই বয়সেই যাঁদের ঘর ছাড়তে হয়, কল-কারখানায়, রাস্তাঘাটে অস্তিত্ব রক্ষার কী অসম্ভব লড়াইটা তাদের করতে হয়, রাজন, রাকিবরা জীবন দিয়ে কিছুটা হয়ত বুঝিয়ে গেছে৷

আসলে কি আমরা বুঝতে পেরেছি? বুঝতে চাই আসলে? কতটা বুঝতে চাই? কার বেলায় বুঝতে চাই? কার বেলায় চোখ-মুখ বন্ধ রেখে, বিবেকে তালা মেরে রাখি? কেউ নিজের সন্তানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি, কিন্তু সন্তানের চোখের সামনেই আরেক শিশুকে পেটাই৷ ঘরে শিশু সন্তান রেখে বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র রাসেল থেকে সিলেটের অতি সাধারণ পরিবারের শিশু সন্তান রাজন, কিংবা খুলনার রাকিবকে হত্যা করে ধরা না পর্যন্ত তো এ সমাজেরই কিছু মানুষ আস্ফালনই করে! অথচ সব অত্যাচারীর, সব শিশু হত্যাকারীরই একটা শৈশব ছিল৷ কবি গোলাম মোস্তফা তো তাদের জন্যও লিখেছিলেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে৷’ শৈশব ধীরে ধীরে দূরে সরে আর মানুষ কি তবে নিষ্ঠুর হতে থাকে?

আরো খবর: