আধুনিকতার কারণে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে শিশুদের বিকাশ সাধন

আধুনিকতার কারণে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে শিশুদের বিকাশ সাধন

তোয়াহা হাদি : সমাজ পরিবেশের দাস। কারণ সমাজ গঠিত হয় একটি পরিবেশের পারিপার্শিক অবস্হার মধ্য দিয়েই। আর মানুষ সামাজিক জীব। কারণ একজন মানুষের জীবনটাই শুরু হয় সমাজে বসবাসের মাধ্যমে। একজন মানুষ তার আচার আচরণ নিয়ম কানুন সব কিছুই সমাজ থেকে শিখে। আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি যে মানুষ একাকি বসবাস করতে পারেনা। তার জন্য প্রয়োজন উন্নত সমাজ ব্যবস্হা। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর এই আধুনিক যুগে সমাজ আজ দ্বংসের মুখে। এতে করে যেমন মানুষের মধ্যে বিশেষ করে শিশুদের মানুষিক বিকাশ সাধনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ঠিক তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পুরনো ঐতিহ্য ও সংকৃতি।
এর জন্য মানুষের আধুনিক সমাজ ব্যবস্হাই দায়ি। এখানে পরিবেশের কোনো প্রভাব নেই। আধুনিক এই প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্হায় এখন যে দিকেই তাকানো যায় সে দিকেই শুধু বড় বড় অট্টালিকা চোখে পরে। আর এগুলো তৈরি করা হচ্ছে গাছ-পালা এবং খেলার মাঠ উজার করে। ফলে শিশুরা হারাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক খেলা গুলো ফলে তাদের বাধ্য হয়ে হতে হচ্ছে প্রযুক্তি নির্ভর।
এ নিয়ে শিশু বিশেষঙ্গরা জানান, একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য তাকে কমপক্ষে দৈনিক এক ঘন্টা করে খেলাধুলা করা উচিত। কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে আমাদের দেশে কিন্তু খেলার মাঠ কমে যাচ্ছে। সেই জায়গা গুলোতে তৈরি করা হচ্ছে সু-উচ্চ দালান কোঁটা। যার কারণে আমাদের দেশের শিশুরা এ থেকে বঞ্চিত হচ্ছ। এতে করে তার স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠা টা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শিশুরা নানা রকমের শারীরিক ও মানুষিক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এছাড়াও তারা আরো বলেন, এসব কারণে তারা এখন বিনোদন হিসেবে প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে। এখন প্রায় শিশুরা অবসর সময়ে বিনোদন হিসেবে অনলাইন, ভিডিও গেইম আর টেলিভিশনকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। এতে করে তাদের জীবনে অলসতা এবং একগুয়েমি প্রতিনিয়তই বেড়েই চলছে। অবশ্য এ জন্য কিছুটা বাবা-মাই দায়ি। কারণ আধুনিক সভ্যতায় এখন বাবা-মা দুজনই চাকুরীজীবি। যার ফলে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের-কে সময় দিতে পারছেন না। যার কারণেই তাদের আজ এই অবস্হা।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে শিশুরা প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় বিকৃত হচ্ছে তাদের মাতৃভাষা। এরকম অবস্হা যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে দাবিত হবে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে তাদেরকে পরিবেশের সাথে বেড়ে উঠার সুযোগ করে দিতে হবে। এর জন্য বাবা-মা সহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের প্রতি বন্ধু সুলভ আচরণ করতে হবে।

আরো খবর: