কে ফোটাবে ওদের মুখে হাসি?

কে ফোটাবে ওদের মুখে হাসি?

রুমান হাফিজ, সিলেটঃ ঈদ মানেইত আনন্দ আর খুশি। ঈদের দিনে নতুন জামা পরতে কার না ভালো লাগে? সবাই কোন না কোন ভাবে ঈদে নতুন জামা-কাপড় কিনে থাকে।আর যাই হোকনা কেনো পরিবারের ছোটদের জন্য ঈদে নতুন জামা কিনতে হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সবাই চায়। কিন্তু ইসলামপুর বস্তিতে বসবাসরত শিশুদের নেই ঈদে নতুন জামার খুশি। সেখানকার বস্তির শিশুদের সাথে কথা হয় সবুজ বার্তা’র।

প্রথমে কথা হয় সুমন নামের ৭-৮ বছরের এক শিশুর সাথে। সে জানায়, তার বাবা মারা যান দু’বছর আগে। তখন সে ক্লাস টু’তে পড়তো। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ায় আর পড়ালেখা সম্ভব হয়নি তার একমাত্র মাকে নিয়ে একমুঠো খাবার জোগাড় করতে বস্তির পাশেই একটি রেস্টুরেন্ট-এ কাজ নেয় সে। ছোট বলে মালিকের বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কাজ ছেড়ে দেয় সে। এখন কি করে জানতে চাইলে সে জানায়,”কাগজ, বোতল এগুলো কুড়াও, বিক্রি করি “। সামনে তো ঈদ, নতুন জামা কিনা হয়েছে কি? প্রশ্নটি শুনা মাত্রই দীর্ঘ্য শ্বাস টেনে মাথা নিচু করে রাখে। আর কিছুই বলতে চাইলো না।

আরেক শিশুর সাথে কথা হয়, ওর নাম রুহুল, বাবা অটোরিকশা চালক, আর মা ক্লিনারের কাজ করে বাসাবাড়িতে।কথা বলার এক পর্যায় চলে আসে রুহুলের ছোট ভাই রাসেল। রুহুল, রাসেল ছাড়াও তাদের আরো তিন বোন রয়েছে। মোট ৭জনের পরিবার। রুহুল প্রাইমারী স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র, আর ছোট ভাই রাসেল এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী হলেও রুহুল স্কুলে নিয়মিত যায়না। ঈদে ভাউ বোনদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সে জানায়, “বাবাকে বলছিলাম, কিন্তু বাবা বলছে – তিন মাসের খরচের টাকা বাকী পড়ে আছে, কিইন্যা দেওন যাইবনা।”

ইসলামপুর বস্তির রাসেল, রুহুল কিংবা সুমনই নয় এভাবে আরো কত-শত শিশু রয়েছে, যারা কি না ঈদের নতুন জামা-কাপড় হতে বঞ্চিত। নেই ওদের কাছে ঈদের খুশি। আমাদের দেশে অসংখ্য বিত্তশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ঈদে কত্তো কিছুই ক্রয়িণী করে থাকেন। কিন্তু তারা কি একবারও ওইসব বঞ্চিতদের কথা খেয়াল করে? কিংবা একটুখানি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন?
সরকারের কিংবা সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি আপনি/আমি এগিয়ে না আসি, তাহলে কে ফোটাবে ওদের নিষ্পাপ মুখে হাসি?

আরো খবর: