পথশিশুদের পাশে আছে ‘মজার ইশকুল’

পথশিশুদের পাশে আছে ‘মজার ইশকুল’

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এগুলো হলো প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের দেশের দারিদ্র্য ও অসহায় শিশুরা। মৌলিক অধিকার ও সুবিধা বঞ্চিত, দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের অধিকাংশই পথশিশু।
এই সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার মানসে মজার ইশকুল যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একদল উদ্যমী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু হয়।
মজার ইশকুলের প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ান আরিফ জানান, ‘স্কুলের শুরুটা হয় ফেইসবুকের একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেয়া ফেইসবুকের সেই স্ট্যাটাসটিতে আমি লিখেছিলাম, ঢাকায় যে সকল পথশিশু রয়েছে তাদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ফেইসবুকের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন ২ জন। প্রতিষ্ঠিত করলাম মজার ইশকুল। এরপর শুরু হলো পথচলা। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন অনেকেই’।
‘খাদ্য-শিক্ষা-প্রযুক্তি’ –এই শ্লোগানকে ধারণ করে স্কুল পরিচালনা করছেন তারা। বর্তমানে ৪ টি পয়েন্টে কাজ করছে এই ইশকুল – শাহবাগ, আগারগাঁও, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। রয়েছে একটি স্থায়ী ইশকুল – আগারগাঁও এ ভাড়া নেওয়া একটি ঘরে। শাহবাগ, কমলাপুর ও সদরঘাটে রয়েছে অস্থায়ী ক্লাস। যেখানে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করানো হয়।
তারা জানান, ‘ ক্ষুধার্ত শিশুকে খালি পেটে রেখে শিক্ষার জন্য প্রস্তুত কল্পনা-বিলাস বলে মনে করে সংগঠন। তাই প্রতি ক্লাসে খাবার নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে গড়ে তোলা তাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। সেজন্যে তারা পাঠদান শেষে পেট পুরে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া তারা ফল উৎসব, ঈদ উৎসব উদযাপন করে থাকেন ও বিভিন্ন বিশেষ দিনে পথশিশুদের রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে থাকেন। তাছাড়া শীতকালে তারা পথশিশুদের শীতবস্ত্রও বিতরণ করে থাকেন’।
মজার ইশকুলের সমন্বয়কারী হাসিবুল হাসান জানান, ‘পথশিশুদের সমস্যাটি হলো একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যাটি দূর করার জন্য আমাদের সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসা উচিৎ’।
আর্থিক যোগানের বিষয়ে সমন্বয়কারী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘সদস্যদের চাঁদা নিয়ে আমরা স্কুলগুলো চালিয়ে থাকি। প্রতি সদস্য ক্লাসপ্রতি ৫০ টাকা চাঁদা দেন। এছাড়া খাবারের এত টাকা আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিভিন্ন সময় কাপড়, খাবার, শীতের জ্যাকেট, ঈদের কাপড় ও পড়ার উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করেন’।
এই মজার ইশকুল পরিচালনা করার জন্য তারা ‘অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন যা সরকার অনুমোদিত।

আরো খবর: