শিশুদের প্রতি বড়দের যা করা অনুচিত

শিশুদের প্রতি বড়দের যা করা অনুচিত

মিজান রহমান,(কুলাউড়া, মৌলভীবাজার): আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যে দেশ, জাতি বা পরিবার তার শিশুদের প্রতি যত্মশীল সে দেশ, জাতি বা পরিবারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার ততটুকুই প্রশস্ত। একটি বিকাশমান, মেধাবী শিশু গঠনের জন্য প্রয়োজন শিশুদের উপযোগী বেড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি করা। ছোট্ট একটি শিশু যখন জন্মায়, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তাকে ঘিরে বাবা-মা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তার আত্মীয়-স্বজনেরাও।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সেই স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে সেই শিশুর উপর অনেকসময় এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয় যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। একটি শিশুর মন থাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কাজেই শৈশবে শিশুর সাথে কিছু কিছু কাজ করা বড়দের একেবারেই উচিত নয়।
একটি শিশু সবসময় চায় সে তার নিজের মতো করে নিজের সাম্রাজ্য গড়তে। প্রকৃতি, পরিবেশ, পরিবারের স্পর্শে সে নিজেকে নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করে। সে তার জীবনের লক্ষ্য নিজে নিজেই ঠিক করে থাকে। বড়দের উচিত শিশুর এই মুক্ত চিন্তার উপর বাঁধা না দিয়ে তার মত করে সুন্দরভাবে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করা। শিশুকে আপনি তার চিন্তার প্রতি সুচিন্তিত মতামত দিয়ে তাকে বহুমুখী চিন্তাশক্তিতে যুক্ত করতে পারেন।

শিশুরা যেমন ভালোবাসা চায়, তেমনি স্বীকৃতিও চায়। উৎসাহ চায়। যেকোন গঠনমূলক কাজেই তাকে উৎসাহ দিতে হবে। শিশুকে পড়তে বলা হলো, সে যদি অনেক তাড়াতাড়ি পড়া তৈরী করতে পারে, তাকে তার জন্য প্রশংসা করতে হবে। তাকে ছোট্ট একটা পুরস্কারও দিতে পারেন। এতে সে আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে। অথচ অনেক অনেক পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করেও যদি সে কোন স্বীকৃতি না পায়, এতে তার মন ভেঙে যাবে। সে কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে দ্রুতই।
কোন স্বাভাবিক মানুষই অন্য আরেকজনের সাথে নেতিবাচকভাবে তুলনীয় হতে চান না। শিশুদের ক্ষেত্রে এই জিনিসটার ব্যাপকতা আরো বেশি। প্রায় সময়েই দেখা যায়, পরীক্ষায় খারাপ করলে অথবা অন্য যেকোন কারণে হোক বাবা-মা শিশুকে অন্যদের সাথে তুলনা করেন। এই কাজ করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়।

কোন একটি শিশু হয়তো কথা কম বলে। হয়তোবা সে অন্য সবার থেকে একটু আলাদা। অন্য সবাই যখন চিৎকার করে বাড়ি মাতিয়ে রাখে, তখন সে হয়তো আপনমনে ছবি আঁকে। গল্পের বই পড়ে। অথবা এমনও হতে পারে, সেই শিশু একটু লাজুক। সবার সাথে মিশতে পারে না। এ ধরণের শিশুর সাথে অনেকেই খুব বাজে আচরণ করেন। তাকে অমিশুক, অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে বোকাও মনে করা হয়। তার সাথে এরকম আচরণ করলে, সবার সামনে তাকে ক্রমাগত ছোট করলে সেই শিশু নিজের মধ্যে আরো গুটিয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে সে আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
অনেক সময় এমন হতে পারে, শিশু খেতে চাচ্ছে না। অথবা টিভিতে কোন কার্টুন হচ্ছে। সেটা দেখার জন্য সে বই নিয়ে বসতে চাচ্ছে না। এ ধরণের ক্ষেত্রে শিশুকে আদর করে ধীরে ধীরে বোঝাতে হবে। রাগারাগি করলে অথবা জোর করলে হীতে বিপরীত হবে। শিশু আরো বেশি জেদ দেখাবে।
আপনার শিশু আপনার বাগানের ফুটে থাকা একটি ফুলের মতোই। তাকে যত্ন করুন, খেয়াল রাখুন, অনুপ্রেরণা দিন, সাহস দিন। সে জয়ী হবেই। মনে রাখবেন শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আপনার চাল-চলন, কথা-বার্তা, তার প্রতি আপনার ব্যবহার সবকিছুই থেকে সে শিখবে। অতএব, শিশুর প্রতি আপনার ব্যবহার করুন নমনীয় ও বন্ধুসূলভ।

আরো খবর: