শিশু বয়সে পরিবারের খরচ যোগাচ্ছে নারায়ন

শিশু বয়সে পরিবারের খরচ যোগাচ্ছে নারায়ন

মো: হাসান শিকদার(১৬), মানিকগঞ্জ: নারায়ন পাল,বয়স মাত্র ১১ বছর।যে।বয়সে হাতে থাকার কথা বই, খাতা এবং কলম।সহপাঠিদের সাথে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও আনন্দে সময় কাটানোর কথা, ঠিক সে বয়সেই পুরো পরিবারের খরচ যোগাতে হয় তাকে।তার নিজের ও পরিবারের সকলের জীবিকা নির্বাহের জন্য বই,খাতা ও কলমের পরিবর্তে মানুষের জুতা পরিষ্কার ও সেলাই এর কাজ করতে হয় তাকে।নারায়ন জানায়,তার পরিবারে তার মা ও তার এক ছোট বোন আছে।বাবা অনেক আগেই মারা গেছে,তাই পরিবারের খরচ যোগাতে ও দু বেলা দু মুঠো ভাতের খরচ যোগাতে তাকে এই জুতা শেলাই এর কাজ করতে হয়।

তার জন্মস্থান পাবনা জেলায় হলেও বর্তমানে সে মানিকগঞ্জ এর পাটুরিয়াতে পরিবারের সাথেই থাকে।আর পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের বিভিন্ন ফেরিতে যাতায়াত করা লোকজনদের জুতার কাজ করে।সকাল থেকে প্রায় সন্ধারাত পর্যন্ত চলে তার এই হারভাঙা পরিশ্রম।লেখাপরার কথা জানতে চাইলে সে জানায়,” ভাই আমরা কেমনে পরুম কন,পেট ভইরা খাইতে পারি না ঠিকমত।আর লেহাপড়া করতেও তো এহন অনেক ট্যকা পয়সা লাগে।মা বাড়ী বাড়ী কাম করে আমি জুতা শিলাই এ ট্যকা দিয়াই আমরা চলি।”

শিক্ষার সুযোগ না পাওয়াতে সে লেখাপড়া করতে পারছে না।মাঝে মাঝে অসুস্থতার কারনে ঠিকমত কাজ করতে না পারলে যেখানে ঠিকমত খাদ্যই জুটে না সেখানে লেখাপড়াতো স্বপ্ন মাত্র।তবুও এ সে স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়না।আর তাই জুতো শেলাই এর কাজ করেও স্বপ্ন দেখে কোন একদিন স্কুল শিক্ষক হবে সে।নারায়নের ইচ্ছে সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে:” ইচ্ছাতো আছিলো লেহাপড়া করুম বড় হইয়া সার( শিক্ষক) হমু।কিন্তু এহনতো খালি কাজই করি”.।নারায়নের সারাদিনের কষ্টের বিনিময়ে দিনে সে মাত্র ৯০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে।আর তার পুরোটাই ব্যয় করে তার পরিবারের পেছনে।তাই জীবনে বড় হয়ে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছে থাকলের ইচ্ছে পূরনে রয়েছে নানা ধরনের বাধা।

সেই সাথে তার কর্মক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সমস্যা।সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করলেও অনেকেই তার সাথে রূঢ় ( খারাপ) আচরন করে।কাজে সামান্য ভুল বা মন মত না হলে শুনতে হয় মানুষের বকাঝকা,এমনকি কেউ কেউ মাঝে মাঝে মারতেও আসে বলে অভিযোগ করে সে।সরকারের সদয় দৃষ্টি ও সমাজের বিত্তবানদের সামান্য সাহায্য এবং সহানুভূতিই পারে নারায়ন পালের মতো দেশের অসংখ্য শ্রমজীবী শিশুদের স্বপ্নকে পূরন করতে।আর শিশুশ্রমের মত নির্মম নির্যাতনের যাতাকল থেকে মুক্তি পেয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে এ সকল শিশুরা, এমনটিই প্রত্যাশা সকলের।

আরো খবর: