ইটের ভাটার শিশু শ্রমিক

ইটের ভাটার শিশু শ্রমিক

আমিনুল ইসলাম, শরীয়তপুর :

বাংলাদেশের শিশু অপরাধের অন্যতম একটি অংশ শিশুশ্রম।
শিশুশ্রম অনেক ধরনের হতে পারে যার মধ্যে ইটের ভাটায় নিয়োজিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করে বহুল সংখ্যক শিশু।
শরিয়তপুর জেলার কোটাপাড়ায় নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত অনেক গুলি ইটের ভাটা। এই সকল ইটের ভাটার মধ্যে প্রায় প্রতিটি ভাটায় কর্মরত অবস্থায় আছে ৬-৭ এর অধিক ছেলে ও মেয়ে শিশু। বয়স ১১থেকে ১৪ এর মধ্যে বা এর চাইতে ছোট। অনেকেই এসেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যেমন সাতক্ষিরা,ভোলা সহ আরো অন্যান্য জায়গা থেকে ।তাদের পরিবার থেকে থাকতে হয় আলাদা।received_547224328820610

শিশু শ্রমিক মুহিদ বয়স ১৪ সে কাজ করে ৫ বসর যাবত। অর্থাৎ ৯-১০ বসর বয়স থেকেই সে পরিবার থেকে দূরে, পড়া লেখা করেছে দ্বিতীয় শ্রেনি পর্যন্ত, প্রতি ঋতুতে সে ৪০ হাজার টাকা উপার্জন করে কিন্তু সে যে পরিমানের অর্থ উপার্জন করে তার পরিমানটাই হয়তো সে নিজেও বুঝে না। বছরে তারা ৬ মাস কাজ করে প্রায় কোন প্রকার ছুটি ছাড়া। মালিকের সাথে তাদের চুক্তিনামা থাকে এই ৬ মাসের। এর জন্য কাজ এবং বয়স অনুযায়ী তাদের টাকার পরিমানেরও থাকে ভিন্নতা ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত যেটা তাদের এক সাথে দেওয়া হয়। তাদের সাথে কথা বলার সময় তাদের প্রতিদিনের কাজের স্পর্কে জানে চাইলে তখন তারা জানায় তাদের প্রতিদিনের কাজের বিবরণ এবং কিছু সমস্যা। এর মধ্যে প্রধান সমস্যা : প্রতিদিন তাদের কাজের শুরু হয় ভোর ৩টা থেকে বিকেল ৫-৬ টা পর্যন্ত।
মাঝে দুপুরে খাবার বিরতি।
১০-১৫ বয়সের একজন শিশুর প্রতিদিন ঘুমের প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ ঘন্টা কিন্তু সেই পর্যাপ্ত পরিমানের সময় তারা পায় না। প্রতিদিন তাদের কাজ করতে হয় ১৬ থেকে ১৫ ঘন্টা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের অর্ধেকেরও বেশি। বয়সের তুলনায় তাদের পরিশ্রম অধিক। ভোরে ভাটায় ইট সাজানোর মতো ঝুকিপুর্ণ কাজের মাধ্যমে তাদের কাজ শুরু। এরপরে মাটি গোলানো, ইট বানানো, রোদে দেয়া, কয়েকবার ইট উল্টিয়ে দেয়া,ইট নিয়ে যাওয়া সকল প্রকার কঠিন কাজেই তাদের পওয়া যায়।
পাশা পাশি তাদের থাকার স্থানও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নয় এবং উপযুক্ত নয়, তাছাড়া ভাটার পাশে অবস্থিত এই পরিবেশ তাদের জন্য শারীরিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, ভাটার পাশেই তাদের থাকবার ঘর ।received_547224422153934

কিছু শ্রমিকেরা তাদের সম্পূর্ণ পরিবার নিয়ে সেখানে অবস্থান করে। এমনি অবাক করা বিষয় দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের ৪-৫ বসেরের শিশুরাও হালকা হালকা কাজ করতে শুরু করেছে। অর্থাৎ সে সব শিশুদের ভবিষ্যৎ এই ভাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাদের নিজের কোনো ইচ্ছা বা ভবিষ্যৎ নেই।
আইনত একজন শিশু শ্রমিকে কর্মরত অবস্থায় রাখতে হলে কিছু নিয়মের বা আইনের মধ্যে থেকে তাদের কাজ করাতে হয় কিন্তু এসকল ইটের ভাটায় তা সম্পূর্ণ ভাবে লঙ্গন করা হয়। যা আইনত দণ্ডনীয়।

আরো খবর: