প্রোগ্রামিংয়ের আশ্চর্য জগত

প্রোগ্রামিংয়ের আশ্চর্য জগত

মোঃ সোয়াইদ সামীহ্ পূর্ণ: প্রোগামি কি- তোমরা জানো, কম্পিউটারকে মোটা দাগে দুটি অংশে পৃথক করা হয়, হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার। হার্ডওয়ার হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আর সফটওয়্যার হচ্ছে সেসব যন্ত্রাংশ চালানোর জন্য লেখা নিদির্ষ্ট সংকেত বা কোড। হার্ডওয়ার কীভাবে কী করবে, সেটি নির্ধারন করে সফটওয়্যার, যাকে আমরা কম্পিউটার প্রোগামও বলে থাকি। কম্পিউটার প্রোগাম হচ্ছে এক বিশেষ ধরনের ভাষায় লিখা সংকেত, যেগুলো সাজানো থাকে এমনভাবে, যাতে করে কম্পিউটারের হার্ডওয়ার সহজেই বুঝতে পারে, তাকে ঠিক কোন কাজটা কীভাবে করতে হবে। পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের জন্য অনেক ভাষা আছে, তেমনি কম্পিউটারের জগতেও অনেক ভাষা আছে, যেগুলোকে বলে প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। যেমন: সি, সি প্লাস প্লাস, জাভা, পাইথন, পিএইচপি ইত্যাদি। এসব ভাষার কোনো একটি বেছে নিয়ে সেই ভাষা নিয়মকানুন মেনে ঠিকমতো কোড লিখলে তৈরি হয়ে যাবে কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার। তবে ভাষার নিয়মকানুন ঠিক রেখে শুধু কোড লিখে গেলেই সেটি প্রোগ্রাম হবে না, যেমনটি বাংলা ভাষায় নিয়মকানুন মেনে হাবিজাবি লিখলেই সেটি কবিতা হবে না। হ্যাঁ, কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ভালো হতে হলে কবিদের মতো সৃজনশীল হওয়া চাই। সঙ্গে অবশ্য আরেকটি জিনিস চাই-যুক্তি বা লজিক।

প্রোগ্রামারের কাজ কি-
প্রোগ্রামারের কাজ হচ্ছে প্রোগ্রাম লেখা। প্রোগ্রামাগুলো বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার হতে পারে। যেমন: গেমস, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সাধারন কোনো ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকের মতো বিশাল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, গুগলের মতো সাের্চ ইঞ্জিন, কম্পিউটার ভাইরাস, অপারেটিং সিস্টেম বা পরীক্ষার রুটিন তৈরির মতো সফটওয়্যার। দুনিয়ায় যে কত রকমের সফটওয়্যার আর কত কাজে যে সেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। প্রোগ্রামাররা নিত্যনতুন সফটওয়্যার তৈরী করে চলেছে। এত এত সফটওয়্যার, তাহলে পৃথিবীর সব সফটওয়্যার তো বানানো হয়ে যাবে একদিন,এমন ভাবনা কি তোমার মনে আছে?

প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার-
বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কমবেশি কাজের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ প্রোগ্রামার কাজ করতে চায় সফটওয়্যার তৈরীর প্রতিষ্ঠানে। একজন ভালো প্রোগ্রামারের জন্য দেশে-বিদেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে ঢের। দেশের সীমারেখা কখনো কাজের প্রতি বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্ররোবছর বাংলাদেশের শীর্ষ কয়েকজন প্রোগ্রামার চাকরি নিয়ে চলে যাচ্ছে গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুকের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া দেশের ভেতরেও কাজের সুযোগ ক্রমোগতই বাড়ছে। একজন ভালো প্রোগ্রামারের কাছে প্রোগ্রামিং হচ্ছে নেশার মতো। নেশাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সৌভাগ্য পৃথিবীর খুব কমসংখ্যক মানুষ লাভ করে।

তথ্য- কিশোর আলো

এসবি-তথ্য ও প্রযুক্তি/২৩ ফেব্রুয়ারী, ১৭/আরিফ

আরো খবর: