এ কথা শুনবে কে?

এ কথা শুনবে কে?

আনিস মিয়া(১৭): অসহায় কিছু মানুষের কথা কখনো বড় অক্ষরে পএিকায় ছাপা হয়না, দেখানো হয়না কোন টিভি চ্যানেল এ। সামাজের দেখা না দেখার মাঝে হারিয়ে যায় সেই মানুষের কথাগুলি। দেখা হয় রাস্তার হাটতে গিয়ে একনজর, পরে সেখান থেকে চলে গেলে, সেই মানুষগুলোর কথা মনে রাখে না কেওই। সেই অসহায় মানুষের মাঝখান থেকে মনে পড়লো সেই মুখটা। মেয়েটির বয়স ১১ হয়তোবা হবে বা তার একটু বেশি। চুলগুলো এলোমেলো, হতোবা তেল কেনার মতো যোগতা নেই, যার কারনে বৃষ্টির পানিই জুই নারিকেল তেল হয়ে উঠেছে তার এক মাএ সম্বলরূপে। কথা বলে জানতে পারলাম মা-বাবা নেই। নেই মানে বেচে নেই এমন নয়, বরং থেকেও নেই।
কারন বাবা ছিলো মাদকসেবী, পরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিলো বলে সবাই বুঝতে পেরেছিলো। আর এখন দুই তিন বছর ধরে নিখোঁজ। মার কথা জানতে পারলাম বাসাবাড়িতে কাজ করে নিজের চলে আর কি, এই না চলার মতোই, মানে বলা যায় যে এই তো না মরে বেচে আছি এই আর কি। তবে মাস শেষে যা হতো তাই দিয়ে ভালো মন্দ কিছু খেয়ে না খেয়ে চলে যেত।
কিছুদিন হলো মাও মারা গেছে।এখন একদিন অনের কাছে হাত পেতে খাওয়া হয়। আগে একদিন খেলে আরেকদিন না খেয়ে থাকতাম, এখন প্রতিদিনই খেতে পারি তবে কোনদিন কম,বা বেশি। অসহায় মেয়েটির নামটা লিখতে মন সাই দিচ্ছে না, যাইহকা এখন মেয়েটির অাশ্রয়স্থল তার দুরসর্ম্পকের এক ফুফুর কাছে। ফুফুর বিয়ে সেসময় ভালো জায়গায় হয়েছিলো যার কারনে ভাড়া বাসায় থাকার মতো সুবিধা তাদের, গর্ব করে বলা যায় তো অন্যার বাসায় থাকি না, টাকা দিয়ে থাকে। ভাড়া বাসা হচ্ছে মেতর পর্টি নামের একটি ছোট বস্তীতে।
ফুফুর স্বামী কিছুদিন হলো রোড় এক্সিডেন্ট এ মারা গেছে।ফুফুর ছেলেমেয়ে বেশি নয় মাএ তিন মেয়ে দুই ছেলে। তার মাঝে এখন এই অসহায় মেয়েটিকে নিয়ে ফুফুর আরেক মাথা ব্যাথা। হাজারো এই কষ্টের মধ্য বেচে থাকতে পারবে কি মেয়েটি? স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ফুফু এখন অন্যর বাড়িতে কাজ করে কোন রকম সংসার চালাছে। তবে স্বপ্ন দেখে ছেলে মেয়ে পড়াশোনা করাবে, এ জন্য সামথ্য মতো ছোট দুই ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করেন। অসহায় সেই মেয়েটি স্বপ্ন দেখতো পড়াশোনা করে ডাক্তার হবে। কিন্তু গরীবের স্বপ্ন দেখা মানায় না।
ফুফুর সংসার খরচ এখন বেড়ে গেছে, যার কারনে এক ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। এখন ফুফুও আর আগের মতো আচর করে কথায় কথা বকা আর মারদোর, চাইলেও স্বপ্ন দেখতে পারেনা অসহায় বন্ধিত মেয়েটি। পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে সেটো কল্পনার বাইরে। বাবা -মা হীন এই অসহায়দের কি কোন স্থান নেই কিছু স্বপ্ন বুনার মতো। মেয়েটির দিন কাটে এখন এর কাছে হাতে পেতে ওর কাছে হাত পেতে। আর থাকার স্থান দিনে রাস্তায়, রাতে সেই ফুফুর রান্না ঘরে। ফুফু কয়েকদিন আগে এক বাড়িতে কাজ দিয়েছিলো কিন্তু ছোট বলে কাজ করা খুুব কষ্ট হয়ে যায়। তবে এখন নতুন একটা কাজ পেয়েছে ও রাস্তায় রাস্তায় পপকন বিক্রি করে সে। তবে ভালোই চলে দিনগুলো, কিন্তু সেই স্বপ্ন গুলো এখনো দেখে সে। কিন্তু স্বপ্ন গুলো স্বপ্ন হয়েই সাথে ঘুরে ফিরে। দিনের শুরুতে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের মতো আবার স্বপ্নটা জেগে উঠে কিন্তু রাতের অন্ধকারে আবার সেই বড় হওয়ার স্বপ্ন, স্বপ্ন হয়েই থেকে যায়। কিন্তু বাংলায় একটা কথা আছে “ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়”। রাস্তায় পপকন বিক্রি করার সে জানতে পারে কোন এক সংগঠন অসহায় শিশুদের বিনামূল্য পড়াশেনা করায়। স্বপ্নগুলো আবারো জেগে উঠলো।

এসবি-ফিচার/২৩ ফেব্রুয়ারী, ১৭/ইসরাত

আরো খবর: