• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫

৫ কোটি টাকার সড়ককাজে ধীরগতি,যানজটে নাকাল মানুষ

Reporter Name / ৩ নিউজ দেখেছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

শেখ ইমন,ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের হাটগোপালপুর বাজার এলাকায় প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। একদিকে চলছে সড়কের ঢালাই কাজ,অন্যদিকে যান চলাচলের জন্য খোলা রাখা একমাত্র লেনটি পরিণত হয়েছে বড় বড় গর্ত,কাদা ও খানাখন্দে। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে,ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে দূরপাল্লার বাস,ট্রাক,অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী যানবাহন। একই সঙ্গে বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাটগোপালপুর বাজারে নির্মাণকাজের কারণে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। বাজারের একপাশে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ঢালাই কাজ চলছে, আর অন্য পাশে একটি মাত্র লেন দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চলাচল করছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেই লেনজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও কাদার স্তূপ। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোট পুকুরের মতো অবস্থা হয়েছে। এতে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান,এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, যশোর,কুষ্টিয়া,মেহেরপুর,চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহগামী শত শত দূরপাল্লার বাস,ট্রাক,কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। হাটগোপালপুর বাজারে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,অটো রাইস মিল,ধান-চালের আড়ত,গুদাম ও শিল্পকারখানা।ফলে সড়কের এই দুরবস্থা শুধু যাত্রী নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাদের অভিযোগ,প্রায় দুই মাস আগে মেহেরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জহিরুল লিমিটেড প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৫০০ মিটার সড়ক ঢালাইয়ের কাজ শুরু করলেও কাজের গতি খুবই ধীর। যথাযথ তদারকির অভাবে কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তারা বলেন,কাজের শুরুতেই বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা,গর্ত দ্রুত ভরাট এবং যান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এত ভোগান্তি হতো না। এখন প্রতিদিনই শত শত মানুষ কষ্ট করে এই সড়ক পার হচ্ছেন।
তাদের দাবি,শুধু আশ্বাস নয়,দ্রুত কাজ শেষ করে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমজুড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন,’দুই মাস ধরে একই অবস্থা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকে থাকে। কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত।’

স্কুলশিক্ষার্থী তানজিলা খাতুন বলেন,’রাস্তা পার হতে ভয় লাগে। কাদা,ধুলো আর যানজটের কারণে প্রতিদিন স্কুলে যেতে দেরি হয়। অনেক সময় হাঁটতেও কষ্ট হয়।’

বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো বাজারে ঢুকতে পারে না। অনেক ক্রেতা যানজটের কারণে বাজারেই আসে না। এতে আমাদের বিক্রি কমে গেছে। প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

ধান ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন,’ধান ও চালের ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। সময়মতো মালামাল পৌঁছাতে না পারায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,’একটি ট্রাক গর্তে আটকে গেলেই পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা আমাদের দোষ দেন,অথচ সমস্যা রাস্তার। গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

ট্রাকচালক মনির হোসেন বলেন,’গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। কয়েক দিন আগে একটি পিকআপ উল্টে যেতে দেখেছি। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

অটোরিকশা চালক হেলাল উদ্দিন বলেন,’সারাদিনে আগের মতো ট্রিপ দিতে পারি না। জ্যামে বসে থাকতেই সময় শেষ হয়ে যায়। আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জহিরুল লিমিটেডের ম্যানেজার আব্দুল হান্নান জানান,’কাজের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আগামী মাসের মধ্যেই এক পাশের ঢালাই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো.আহসান উল কবীর বলেন, ‘মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তারা জানেন। বৃষ্টির কারণে খোলা রাখা লেনে গর্ত ও পানি জমে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত গর্ত মেরামত এবং এক পাশের নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com