• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯

৫ বছর বন্ধ ঝিনাইদহ পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণ,বেজমেন্টে হচ্ছে মাছ চাষ

Reporter Name / ৫ নিউজ দেখেছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

শেখ ইমন,ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রকল্প ছিল আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট। জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে,কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল,সেই প্রকল্পই এখন পরিণত হয়েছে অবহেলা আর আইনি জটিলতার প্রতীকে। সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে চলছে মাছ চাষ। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা নির্মাণসামগ্রীতে ধরেছে মরিচা। কোটি টাকার সরকারি সম্পদ দিনের পর দিন নষ্ট হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ৬৭ শতক জমির ওপর প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরিকল্পনায় ছিল আধুনিক শপিং স্পেসের পাশাপাশি কিডস জোন,নারী উদ্যোক্তা কর্নার,উদ্যোক্তা কর্নার,মিনি আইটি পার্ক, জিমনেসিয়াম,কমিউনিটি সেন্টার এবং আধুনিক গাড়ি পার্কিংসহ নানা নাগরিক সুবিধা। কিন্তু প্রকল্প শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই দেখা দেয় আইনি জটিলতা। যে জায়গায় মার্কেটটি নির্মাণ হচ্ছে সেখানে আগে একটি শিশু পার্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরপর ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণকাজ। সেই থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি আর এগোয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। চারপাশে আগাছা জন্মেছে। যেখানে একসময় আধুনিক বিপণিবিতানের স্বপ্ন দেখেছিল মানুষ,সেখানে এখন নীরবতা আর অবহেলার চিত্র। ভবনের বিভিন্ন অংশে পড়ে থাকা লোহার রডে মরিচা ধরেছে। দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টি ও পানির সংস্পর্শে থাকায় নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন,দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুধু শহরের সৌন্দর্যই বাড়বে না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও আসবে নতুন গতি। জেলার শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী আধুনিক পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নতুন করে সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থান।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ,বছরের পর বছর একটি বড় সরকারি প্রকল্প এভাবে অচল পড়ে থাকলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এতে যেমন সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে,তেমনি শহরের উন্নয়নও থমকে আছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন,’এটি চালু হলে ঝিনাইদহের ব্যবসার চেহারাই বদলে যেত। এখন সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে কাজ শেষ করা উচিত।’

শহরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন,’প্রতিদিন দেখছি কোটি টাকার স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। রডে মরিচা ধরছে,বেজমেন্টে পানি জমে মাছ চাষ হচ্ছে। এত বড় প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সচেতন নাগরিকরদের মতে,আধুনিক পৌর সুপারমার্কেটটি চালু হলে ঝিনাইদহে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে,বাড়বে বিনিয়োগ,সৃষ্টি হবে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘদিনের একটি অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।

সচেতন নাগরিক সুজন বিপ্লব বলেন,দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এ প্রকল্প শুধু একটি ভবনের কাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নয়; এটি জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও আটকে দিয়েছে। তাই দ্রুত আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি করে কাজ পুনরায় শুরু করার দাবি করছি।

ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘আদালতে চলমান মামলার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। আইনি জটিলতা নিরসনে পৌরসভার নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী কাজ করছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী। আদালতের নির্দেশনা পেলেই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।’

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com