নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের মানুষের জন্য একমাত্র সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো একটি সেতু। কিন্তু দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর প্রায় ৯ মাস আগে সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের তৈরি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সেই সাঁকো দিয়েই পারাপার করছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী,কৃষক,শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ভাঙা সেতুর দু’পাশে মানুষের দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র। কেউ মাথায় কৃষিপণ্য নিয়ে,কেউ আবার সাইকেল কাঁধে করে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন। নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,দআগে বাজারে যেতে ১৫-২০ মিনিট লাগতো। এখন ঘুরে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। ভ্যান বা অটো না চলায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। খরচও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।’
স্কুলশিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন বলে,‘প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।’
ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,‘সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের আয় কমে গেছে। গাড়ি নিয়ে আর যেতে পারি না। যাত্রীও কমে গেছে। দ্রুত সেতু না হলে আমরা আরও সমস্যায় পড়বো।’
স্থানীয় বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন,‘রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে খুব সমস্যা হয়। রাতে জরুরি রোগী হলে বড় বিপদে পড়তে হয়। একটি সেতুর জন্য এত মানুষ কষ্ট করছে,কিন্তু কেউ যেন দেখার নেই।’
এলাকাবাসী জানান,বিষয়খালী-নগরবাথান ১১ কিলোমিটার জিসি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময়,ভোগান্তি ও পরিবহন ব্যয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও এখনো নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
তবে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
এদিকে সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা,ভারী বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি পেলে অস্থায়ী সাঁকোটিও ভেঙে যেতে পারে। তখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
https://www.kaabait.com