• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫
শিরোনাম
দুই মাসেও মেলেনি তাহসিনের খোঁজ, সন্তানের অপেক্ষায় অশ্রুসিক্ত বাবা-মা মহেশপুরে ছয় মাসে নারী-শিশু নির্যাতনের আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য থানা পুলিশের শৈলকূপায় বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি বরাদ্দের সার-ধানবীজ ঝিনাইদহে সড়ক সংস্কার কাজ ফেলে রাখায় দুর্ভোগ, দ্রুত সমাধানের দাবি ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত- ৬ ঝিনাইদহে বেগুনখেতে গাঁজা চাষ, আটক -১ গৌরীনাথপুর বাজারে দিনে কোটি টাকার ড্রাগন বেচাকেনা ঝিনাইদহ থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ!  প্রশাসনের সহায়তায় দুই ঘন্টাপর সাভাবিক সেতু ভেঙে ৯ মাস ধরে দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ ঝিনাইদহে বিকেএসপির আঞ্চলিক ক্যাম্পাসের স্থান পরিদর্শন

গৌরীনাথপুর বাজারে দিনে কোটি টাকার ড্রাগন বেচাকেনা

Reporter Name / ২৭ নিউজ দেখেছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

এস এম নবীন ঃ ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে বিদেশি ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এই ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে জেলার মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজারে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত। এসব আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে সুস্বাদু ড্রাগন ফল। দিন দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। এই বাজারে দিনে গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। আড়ত গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। বাজারের আড়তগুলোতে চলে বেচাকেনা। আড়তের চালার নিচে সাজিয়ে রাখা হয় লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। পুরো বাজার জুড়ে প্রতিদিন প্রায় একই চিত্র দেখা যায় বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। দিনভর চলে ক্রেতা বিক্রেতাদের দাম দর হাঁকা ও হাকডাক।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার ১২৯ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ হয়েছে। জেলার ৬টি উপজেলায় ড্রাগন ফলের উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ১৮২ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার সদর উপজেলায় ২৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৪৩৯ হেক্টর, মহেশপুরে ৩১৬ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৩২৮ হেক্টর, হরিণাকুণ্ডুতে ৬ হেক্টর ও শৈলকুপা উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ করেছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক সাহাবুল ইসলাম বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই আমরা এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন খরচ ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল ও বস্তায় ভরে ফল নিয়ে আমরা বাজারে এসে বিক্রি করি।

বাজারের একটি আড়তে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত জাকির হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এই বাজার গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। আড়তগুলোতে ফলের পরিমাপ করা ও প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা আলাদা লোক কাজ করে। সবাই প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারে।

কুমিল্লা থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী শুকুর আলী বলেন, গৌরীনাথপুর বাজারের ফলের মান ভালো। দামও নাগালে। প্রতি সপ্তাহে এই বাজারে এসে ফল ক্রয় করি। এই বাজারে আমার মতো অনেকেই ফল কিনতে আসেন।

বাজারের পাইকারি ও খুচরা আড়তদার শরিফুল ইসলাম বলেন, এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এসব ফল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে। ফলের আকার ও মান ভেদে দাম কম-বেশি হয়ে থাকে। বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারেন।
ঝিনাইদহ

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com